শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ / সকাল ৭:১৫ঢাকা, বাংলাদেশ যোগাযোগ ↗
এইমাত্র
সংবাদ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউজে তোলপাড়: প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবের হুমকি, পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন রুবিও

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউজে তোলপাড়: প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবের হুমকি, পদত্যাগের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন রুবিও

ওয়াশিংটন (আন্তর্জাতিক ডেস্ক): মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির কাছে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট—উভয় কক্ষেই ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন ভরাডুবিকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে তীব্র রাজনৈতিক তোলপাড় ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ আট মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ব্যয়বহুল ও রক্তক্ষয়ী ইরান যুদ্ধ এবং এর প্রভাবে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপকে এই ঐতিহাসিক পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে খোদ রিপাবলিকান দলের নেতারাই চিহ্নিত করছেন। এই নির্বাচনি ধাক্কার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে প্রশাসন থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওয়াশিংটনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে হোয়াইট হাউজ এবং পররাষ্ট্র দপ্তর একযোগে এই খবরকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে যাওয়াই তাঁর দৃঢ় পরিকল্পনা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের পদত্যাগের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন যে, তিনি যে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন তা তিনি গভীরভাবে ভালোবাসেন এবং প্রশাসন ছেড়ে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অবস্থান আপাতদৃষ্টিতে সুরক্ষিত মনে হলেও পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। বিদায়ী রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি সরাসরি হেগসেথের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) প্রস্তাব উত্থাপনের আনুষ্ঠানিক হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই আইনপ্রণেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, আগামী জানুয়ারি মাসে নতুন নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেস ক্ষমতা গ্রহণ করার আগেই প্রেসিডেন্টের উচিত হেগসেথকে বরখাস্ত করা। রিপাবলিকানদের হাতে সেনেটের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকতেই একজন নতুন দক্ষ প্রতিরক্ষামন্ত্রী অনুমোদন করিয়ে নেওয়া জরুরি বলে তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন।

অভিশংসনের এই নজিরবিহীন হুমকির মুখে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক ঝাঁঝালো ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, একজন পরাজিত ও ক্ষুব্ধ আইনপ্রণেতা ডেমোক্র্যাট মিত্রদের সঙ্গে আঁতাত করে তাঁর বিরুদ্ধে এই ভিত্তিহীন অপপ্রচারে নেমেছেন। হেগসেথ দাবি করেন, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়নে তাঁর নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা দপ্তর অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করেছে। সশস্ত্র বাহিনীতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে রিক্রুটমেন্ট বা সৈন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করা, সামরিক শিল্প উৎপাদন বাড়ানো এবং সেনাবাহিনী থেকে বিতর্কিত রাজনৈতিক এজেন্ডা নির্মূল করার কৃতিত্ব তাঁর। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত জানুয়ারি মাসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা এবং চলমান ইরান যুদ্ধে কঠোর সামরিক আঘাত হানার ক্ষেত্রে পেন্টাগন দৃঢ় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বিরোধী শিবিরকে সতর্ক করে বলেন, নীতিগতভাবে ব্যর্থ হয়ে ডেমোক্র্যাট ও তাঁদের মিত্ররা এখন প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করার নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে।

তবে হেগসেথ যতই নিজের সাফাই গান না কেন, ট্রাম্প শিবিরের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দিন দিন বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উভয়ই একান্তে স্বীকার করেছেন যে, ইরান যুদ্ধের ভয়াবহ ব্যয় এবং দীর্ঘায়িত সংঘাতের কারণেই আমেরিকান ভোটাররা ব্যালট বাক্সে রিপাবলিকানদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের এই বিপর্যয়ের ফলে কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্পের যেকোনো নীতি অনুমোদন করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি একাধিক প্রভাবশালী ফোন পেয়েছেন, তবে আপাতত তাঁকে দায়িত্বে বহাল রাখার সদিচ্ছা তাঁর রয়েছে। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন যে, হেগসেথ চমৎকার কাজ করেছেন। কিন্তু ওয়াশিংটন পোস্টের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরান যুদ্ধের সামরিক কৌশল পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ট্রাম্প হয়তো জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন অথবা সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করছেন।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, পেন্টাগনের এই জটিল ও বিতর্কিত পরিস্থিতি থেকে সম্মানজনক প্রস্থান নিশ্চিত করতে পিট হেগসেথকে টেনেসির খালি হওয়া মার্কিন সেনেট আসনে প্রার্থী হিসেবে পাঠানো হতে পারে। তবে রিপাবলিকান দল ও সামরিক নেতৃত্বের ভেতরের এই প্রকাশ্য টানাপোড়েন ওয়াশিংটনের ভূরাজনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে নবম মাসে গড়ানো ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ রণকৌশল কোন দিকে মোড় নেবে এবং নতুন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির ওপর কী ধরনের বিধিনিষেধ বা তদন্ত চাপিয়ে দেবে—তা নিয়ে পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক জেনারেলদের ভেতরেও চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অচলাবস্থা, অন্যদিকে নিজ দলের ভেতরের প্রকাশ্য বিদ্রোহ ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের ভবিষ্যৎকে এক কঠিন সংকটের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

সূত্র: BBC Bangla

মতামত (০)

এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।

বিজ্ঞপ্তি

এটি 24TV.Live এর বেটা সংস্করণ। আপনার মতামত জানান।

মতামত দিন ↗
অ্যাপ ডাউনলোড Android Android TV