হৃদয়ের কাছেই রহস্যটা জানতে বললেন সিমন্স

‘অবিশ্বাস্য, অসাধারণ’—তাওহিদ হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরির প্রশংসায় বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বললেন দুটি শব্দই। জিম্বাবুয়েতে অভিষেক হওয়ার পর হৃদয় নিজের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলেছেন মিরপুরে এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে।ওই ম্যাচের দুই ইনিংসেই তিনি অসময়ে মারতে গিয়ে আউট হয়েছিলে...
‘অবিশ্বাস্য, অসাধারণ’—তাওহিদ হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরির প্রশংসায় বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বললেন দুটি শব্দই। জিম্বাবুয়েতে অভিষেক হওয়ার পর হৃদয় নিজের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলেছেন মিরপুরে এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে। ওই ম্যাচের দুই ইনিংসেই তিনি অসময়ে মারতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন।
তারপর তাঁকে নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি, টেস্ট খেলার মতো ধৈর্য আছে কি না, উঠেছিল এমন প্রশ্নও। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তিনি আজ বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৪২ রানের ইনিংস খেললেন। কীভাবে তা সম্ভব হলো; সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের উত্তরে সিমন্স বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, হৃদয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে আপনারা তাকেই জিজ্ঞেস করবেন, এই ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে রহস্যটা কী।
কারণ, একমাত্র সে–ই এটা ব্যাখ্যা করতে পারবে। ’.প্রায় পুরো দিন ব্যাটিং করা হৃদয়েরই আজ সংবাদ সম্মেলনে আসার কথা ছিল। কিন্তু মাংস পেশিতে টান লাগায় এতটুকু আসতেও নিষেধ ছিল ফিজিওর।
সিলেটে দলের প্রতিনিধি হয়ে তৃতীয় দিন শেষে তাই সংবাদ সম্মেলনে আসেন সিমন্স। ঘুরে দাঁড়ানোর রহস্য না বললেও কোচ বলেছেন, ‘মিরপুরে সে দু-একটি বেপরোয়া শট খেলেছিল। কিন্তু সেটা ছিল তার মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ, তাই ওই বিষয়টি ধরে তাকে বিচার করা ঠিক হবে না।
আমার মনে হয়, সে দ্রুত পরিণত হচ্ছে, আজ আমরা সেটাই দেখেছি। ’প্রথম টেস্টের ওরকমভাবে আউট হওয়ার পর হৃদয়ের সঙ্গে আলাদা করে কথা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে সিমন্স বলেন, ‘আমরা সব ব্যাটসম্যানের সঙ্গে বসে বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের মূল্যায়ন এবং কীভাবে আমরা সেই পরিস্থিতি ও চাপ থেকে বেরিয়ে আসতে পারি, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। আলাদা করে কারও সঙ্গে কথা বলিনি।
সব ব্যাটসম্যানের সঙ্গে স্বাভাবিক আলোচনাই হয়েছে। ’.শেষ দুই ব্যাটসম্যান তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ২০২ রান যোগ করেছেন হৃদয়। এর মধ্যে তাঁকে অনেক কঠিন পরিস্থিতিও সামলে নিতে হয়েছে।
ইনিংসজুড়েই তিনি আগলে রাখেন দুই ব্যাটসম্যানকে। অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে চার–ছক্কাও মেরেছেন সমানতালে। তাঁর ইনিংসটাকে এসবই আলাদা করেছে বলে মনে করেন সিমন্স, ‘যখন তারা বাউন্ডারিতে ফিল্ডার রেখেছে, তখনো সে বাউন্ডারি বের করতে পেরেছে, ছক্কাও মেরেছে।
এমনকি ক্লান্ত হয়ে পড়ার পরও। ডাবল সেঞ্চুরির কাছাকাছি যাওয়ার সময় বোঝা যাচ্ছিল সে ক্লান্ত। কিন্তু সব দিক বিবেচনায় এটা ছিল তার অসাধারণ একটা প্রচেষ্টা।
’পরে আরও বলেছেন, ‘খেলাটা বোঝা, কোন শট খেলতে হবে তা জানা, কখন শেষ তিন ব্যাটসম্যানকে স্ট্রাইক দিতে হবে—এই ইনিংসে সবকিছুই সে অসাধারণভাবে করেছে। ’.হৃদয়জুড়ানো ডাবল সেঞ্চুরি.আজ সকালে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে হৃদয় যখন ব্যাটিং করতে নামেন, তখন বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ৮৮। সেখান থেকে ২৩ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ করবে দল, এটা বোধ হয় খুব বেশি মানুষের ভাবনায় ছিল না।
হৃদয়ের অপরাজিত ২৪২ রানের ইনিংসেই তা সম্ভব হয়েছে। এমন ইনিংসের পুরো কৃতিত্ব হৃদয়কেই দিয়েছেন সিমন্স, ‘ব্যাটিং করার সময় আমি ড্রেসিংরুমে বসে কীভাবে ব্যাটিং করতে হবে, সে বিষয়ে বার্তা পাঠাতে পারি না। তাই হৃদয় যা করেছে, সবই তার নিজের চিন্তা থেকে করেছে।
তার সঙ্গে যারা ছিল, সেই দুজনের সঙ্গে— প্রথমে মুশফিক, এরপর তাইজুলের সঙ্গে মিলে সে যা করেছে, সবই তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত। ’.হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরিতে যত কীর্তি।
হৃদয়ের কাছেই রহস্যটা জানতে বললেন সিমন্স—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম আলো ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।






মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।