আন্তর্জাতিক বাজারের কঠিন চ্যালেঞ্জ ও তীব্র প্রতিযোগিতাকে পেছনে ফেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের জুতা রপ্তানিতে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধি দেশের চামড়া ও পাদুকা শিল্পের অপার সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচন করেছে।
বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের পাদুকা বা জুতা রপ্তানি খাতে এক দুর্দান্ত সাফল্য অর্জিত হয়েছে। গত কয়েক ত্রৈমাসিকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে নানা সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির মতো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশি জুতা প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ইইউর ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। মূলত মানসম্মত পণ্য সময়মতো সরবরাহ এবং প্রতিযোগিতামূলক দামের কারণে ইউরোপের বাজারে এই ইতিবাচক ধারার সৃষ্টি হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘ দিন ধরে চামড়া খাতের নানাবিধ কমপ্লায়েন্স বা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের যে তাগিদ ছিল, তা পালনে দেশীয় উদ্যোক্তারা এখন অনেক বেশি সচেতন। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়া, শ্রমিকের অধিকার এবং কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় ইউরোপীয় ক্রেতারা এখন বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চীনসহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী রপ্তানিকারক দেশগুলো যখন বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা ইইউর বাজারে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে হলে সরকারের নীতিগত সহায়তা এবং উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। বিশেষ করে কাঁচামাল আমদানিতে দীর্ঘসূত্রিতা কমানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়া ও পাদুকা শিল্প আরও বহুদ দূর এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে নতুন নতুন নকশা ও উন্নত মানের জুতা তৈরির মাধ্যমে ইইউর বাজারে নিজেদের অংশীদারত্ব আরও সুসংহত করার সুযোগ রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মতে, এই সাফল্য দেশের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তৈরি পোশাক খাতের বাইরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের যে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য রয়েছে, তা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে। বর্তমান ধারা বজায় থাকলে আগামী দিনে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের জুতা রপ্তানি আরও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।