ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশে সামুদ্রিক মাইনের আঘাতে দুটি বিশাল সুপারট্যাংকারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই আকস্মিক হামলার ফলে জাহাজ দুটিতে আগুন ধরে যায় এবং ইঞ্জিন বিকল হয়ে সেগুলো সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়লে নাবিকেরা নিরাপদে সরে যেতে বাধ্য হন।
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের এক সামুদ্রিক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর বরাতে জানা যায়, প্রণালির দক্ষিণাংশে অজ্ঞাত উৎস থেকে পেতে রাখা নৌমাইনের আঘাতে দুটি সুপারট্যাংকারে তীব্র বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই জাহাজ দুটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, এই আকস্মিক ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের ফলে তেলবাহী সুপারট্যাংকার দুটির ইঞ্জিন রুমসহ প্রধান যন্ত্রাংশগুলো সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। এর ফলে জাহাজ দুটি মাঝসমুদ্রে অরক্ষিত ও অচল অবস্থায় ভাসতে থাকে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাওয়ায় এবং বড় ধরনের প্রাণহানির ঝুঁকি এড়াতে জাহাজে থাকা নাবিক ও ক্রুরা জরুরি ভিত্তিতে জাহাজ দুটি ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে সরে যান। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বা নিখোঁজ নাবিকদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই তেল পরিবহন রুটে এ ধরনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের নাশকতা বা নিরাপত্তা দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এই বিস্ফোরণের পেছনে কার বা কাদের হাত রয়েছে এবং কীভাবে ওই এলাকায় মাইন বসল, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং জলপথটি বিপদমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।