মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চীনা অর্থায়নে পরিচালিত কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা করেছে পেন্টাগন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চীনের অর্থায়নে পরিচালিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিশেষ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই কঠোর সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাঁর ভিডিও বার্তায় উল্লেখ করেন যে, মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সাংস্কৃতিক আবর্তের আড়ালে পরিচালিত কার্যক্রম দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করছে। মার্কিন নীতিনির্ধারক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বেইজিংয়ের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ চালানো হচ্ছে, যা মার্কিন সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
বিশ্লেষকদের মতে, পেন্টাগনের এই ঘোষণার ফলে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চীনা অর্থায়ন ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির ওপর তদারকি আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মার্কিন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চীনা প্রভাব খর্ব করতে এবং জাতীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জো বাইডেন প্রশাসনের ধারাবাহিক নীতিরই প্রতিফলন এই নতুন ঘোষণা।
এদিকে পেন্টাগনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে বেইজিং। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপে উভয় দেশের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের শীতলতা আরও ঘনীভূত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অবস্থিত বিভিন্ন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের ভবিষ্যৎ এবং সেখানে কর্মরত গবেষক ও শিক্ষকদের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে এখন থেকেই নানা মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।