রুশ ড্রোন হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছিলেন ইউক্রেনীয় সেনা কস্তিয়ান্তিন ভ্লাসেঙ্কো। জীবন বাঁচাতে নিজেই নিজের ক্ষতিগ্রস্ত পা কেটে ড্রোন ব্যবস্থার মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উদ্ধার পান তিনি।
চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে এক অবিশ্বাস্য ও লোমহর্ষক বেঁচে ফেরার গল্প সামনে এসেছে। রুশ বাহিনীর নির্বিচারে ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হন ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য কস্তিয়ান্তিন ভ্লাসেঙ্কো। শত্রুসেনার প্রবল বোমাবর্ষণের মুখে একটি বাঙ্কারের নিচে ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছিলেন তিনি। ওই হামলায় তাঁর একটি পা তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অপর পাটিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকের সহায়তা পাওয়ার কোনো সুযোগ না থাকায় এবং অবর্ণনীয় কষ্টের মাঝেও বাঁচার তীব্র বাসনা তাঁকে এক চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
পরিস্থিতি যখন সম্পূর্ণ প্রতিকূলে এবং মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন, তখন কস্তিয়ান্তিন নিজের জীবন বাঁচাতে এক পৈশাচিক অথচ সাহসিক পদক্ষেপ নেন। ক্ষুরধার একটি ছুরি দিয়ে তিনি নিজের শরীর থেকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পা-টি নিজেই কেটে আলাদা করে ফেলেন। এই বিভীষিকাময় মুহূর্তের পর দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধক্ষেত্রের এমন একটি এলাকায় তিনি আটকা পড়েছিলেন, যেখানে প্রতিনিয়ত ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালাচ্ছিল রুশ বাহিনী। চারদিকে ধ্বংসস্তূপ আর মৃত্যুর মিছিলের মাঝে প্রায় ৪৯১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েন এই ইউক্রেনীয় সেনা।
অবশেষে ইউক্রেনীয় ড্রোন অপারেটর ও উদ্ধারকারী দলের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাঁকে ওই মৃত্যুপুরী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির সহায়তায় ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তাঁকে ঝুলে থাকা অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কস্তিয়ান্তিনের এই চরম মানসিক দৃঢ়তা এবং তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাই তাঁকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের এই ভয়াবহতা ইউক্রেনীয় সেনাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর যে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করছে, এই ঘটনাটি তারই একটি নির্মম বাস্তব উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।