কৃষি ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে 'ব্ল্যাক রুবি' নামের বিশেষ জাতের একটি মিষ্টি আখ। এর অনন্য বৈশিষ্ট্য ও কম প্রাকৃতিক চিনির কারণে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও বেশ উপযোগী বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কৃষি গবেষণায় উদ্ভাবিত নতুন জাতের আখ 'ব্ল্যাক রুবি' দেশের আখের বাজারে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অত্যন্ত রসালো, নরম এবং সহজে চিবানোর উপযোগী এই আখটি সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিমধ্যেই ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। এর মিষ্টি স্বাদ এবং আকর্ষণীয় কালো রঙের কারণে কৃষকদের মধ্যেও এর চাষাবাদের প্রবণতা বাড়ছে। সাধারণ আখের তুলনায় এর গঠনবিন্যাস ও ভেতরের শাঁস বেশ নরম হওয়ায় সব বয়সের মানুষের জন্যই এটি খাওয়া সহজ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জাতের আখের সবচেয়ে বড় বৈচিত্র্য ও স্বত্ব হলো এর ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ। প্রচলিত জাতের আখে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত থাকায় সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীরা তা থেকে দূরে থাকেন। তবে 'ব্ল্যাক রুবি' আখে সুগারের মাত্রা নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে অনেক কম রয়েছে। ফলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে এই আখের রস বা আখ ডায়াবেটিস রোগীরাও উপভোগ করতে পারবেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনে।
পুষ্টিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, আখের রসে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরের ক্লান্তি দূর করতে এবং হাইড্রেশন বজায় রাখতে দারুণ কার্যকর। 'ব্ল্যাক রুবি' জাতটি বাজারে আসায় স্বাস্থ্যসচেতন ব্যক্তিরা এখন কোনো প্রকার সংকোচ ছাড়াই আখের পুষ্টিগুণ লাভ করতে পারছেন। এর চাষাবাদ বাড়লে তা শুধু দেশের আখের চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং কৃষকদের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে এই আখের চাষ সফল হওয়ায় বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথ সুগম হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট গবেষকরা আশা করছেন, সঠিক পরিচর্যা ও নীতিনির্ধারণী সহায়তা পেলে 'ব্ল্যাক রুবি' বাংলাদেশের কৃষিতে একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। সাধারণ ভোক্তাদের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এটি কৃষিপণ্যের বাজারে এক নতুন বিপ্লব ঘটাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।