ইতালির রাজধানী রোম ও মিলানসহ আটটি প্রধান শহরে আজ শনিবার একযোগে বড় ধরনের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বাজেটে বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে আয়োজিত এই কর্মসূচি ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইতালির রাজধানী রোম ও অর্থনৈতিক রাজধানী মিলানসহ অন্তত আটটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে আজ শনিবার ব্যাপক বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। জীবনযাত্রার অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, বাসাভাড়ার ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে সামাজিক খাতের বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে এই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী, শ্রমিক এবং ট্রাকচালকদের বিভিন্ন সংগঠন যৌথভাবে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে এবং শহরগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে ইউরোপজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ইতালির সাধারণ নাগরিক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন যে, সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক নীতিগুলো ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে বাড়িভাড়া এবং জ্বালানি তেলের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ চরম সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে আসন্ন বাজেটে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক খাতের বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব করায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যা আজকের এই দেশব্যাপী বিক্ষোভের রূপ নিয়েছে।
সম্ভাব্য সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে রোম, মিলান, তুরিন ও ফ্লোরেন্সের মতো বড় শহরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, চত্বর এবং প্রধান সড়কগুলোতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন স্থানগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি তুলে ধরার ঘোষণা দিলেও পুলিশ যেকোনো ধরনের জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা কঠোরভাবে দমন করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই বিক্ষোভ বর্তমান ইতালিয়ান সরকারের ওপর বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনজীবনের ব্যয় কমাতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে প্রশাসন। বিক্ষোভের কারণে আজ দিনভর শহরগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং সরকার এই জনরোষ মোকাবিলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।