আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭-কে কেন্দ্র করে টঙ্গী ময়দানে তাবলিগ জামাতের সাদপন্থীদের প্রবেশাধিকার স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, কোনো পরিস্থিতিতেই তাদের ময়দান ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না।
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানকে কেন্দ্র করে দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ময়দানের সার্বিক পরিস্থিতি ও আগামী বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭ সফলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, বিতর্কিত সাদপন্থীরা আর কখনো টঙ্গীর ঐতিহাসিক ইজতেমা ময়দান ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না। দেশের বৃহৎ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতি এবং ইজতেমার সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত শনিবার দুপুরে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের টিনশেড শবগুজারি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত ওই গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম এবং মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল আগামী বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা এবং ময়দানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। দীর্ঘ দিন ধরে তাবলিগ জামাতের দুটি পক্ষের মধ্যকার মতবিরোধের কারণে ইজতেমা ময়দানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে হেফাজতে আমিরের এই ঘোষণা মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বৈঠকে উপস্থিত উলামায়ে কেরাম ও দায়িত্বশীলরা ইজতেমা ময়দানের পবিত্রতা রক্ষা এবং বিগত বছরগুলোতে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির দাবি জানান। আল্লামা বাবুনগরী তার বক্তব্যে বলেন, ইজতেমা ময়দান কোনো গোষ্ঠী বিশেষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা বিতর্কের জায়গা নয়, এটি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর দাওয়াতি কাজের কেন্দ্রবিন্দু। তাই সাধারণ মুসল্লিদের ইবাদত-বন্দেগির পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাদপন্থী অনুসারীদের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের প্রতিও এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এই কঠোর অবস্থানের ফলে দেশের সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের স্বস্তি পরিলক্ষিত হলেও এর সুদূরপ্রসারী সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রভাব নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। ধর্মীয় বৃহত্তম জমায়েত হিসেবে খ্যাত বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে উভয় পক্ষের দূরত্ব কমানোর কোনো উদ্যোগ সফল না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অর্থনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ইজতেমা ময়দানকেন্দ্রিক এই সিদ্ধান্ত গাজীপুর ও এর আশেপাশের এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে থাকে।
পরিস্থিতির সার্বিক দিক বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নীতিনির্ধারকদের এখন থেকেই সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কেবল নিষেধাজ্ঞা আরোপ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আলোচনার টেবিলে কার্যকর সমাধান খোঁজা প্রয়োজন। ২৪টিভি লাইভ-এর সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণে মনে করা হয়, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে প্রশাসনকে যেমন কঠোর হতে হবে, তেমনি সব পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রাখার পরিবেশ তৈরি করাও সমানভাবে জরুরি। আগামী দিনে ইজতেমার সঠিক বাস্তবায়ন ও মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা কেমন হবে, তা সময়ই বলে দেবে।