ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন রাস্তা ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। ফুটপাতে অননুমোদিত দোকান বসানোমাত্রই এখন থেকে সরাসরি মামলা দায়ের এবং মালামাল ক্রোক করা হবে।
রাজধানীর জনবহুল রাস্তা ও ফুটপাতগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদারদের কবজায় থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নগরবাসীর বহুমুখী অভিযোগ এবং যাতায়াতের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার তাগিদে ডিএসসিসি প্রশাসন এই জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংস্থার শীর্ষ পর্যায় থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আইন অমান্য করে যারা জনপথ দখল করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখানো হবে না।
ঘোষিত নতুন এই প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায়, ডিএসসিসির নির্দিষ্ট এখতিয়ারভুক্ত কোনো এলাকায় ফুটপাত বা সড়কে অবৈধ স্থাপনা কিংবা ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট স্থাপন করা মাত্রই তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরাসরি ফৌজদারি মামলা দায়েরের পাশাপাশি ঘটনাস্থলেই অবৈধ মালামাল জব্দ বা ক্রোক করার মতো কঠোর পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশক নিধন অভিযان পরিদর্শনের সময় ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, যা নগর প্রশাসনে বড় ধরনের বার্তা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এবং নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করছেন, রাজধানীর ফুটপাতগুলো বেদখল হয়ে যাওয়ার কারণে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে আসেন, যা প্রায়শই মারাত্মক দুর্ঘটনা এবং তীব্র যানজটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় সাধারণ নাগরিক ও সচেতন মহল দীর্ঘদিন ধরে এই নৈরাজ্য অবসানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ডিএসসিসির এই সাহসী ও কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়ে নগরবাসী বলছেন, কেবল অভিযান পরিচালনা করলেই চলবে না, বরং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই দখল সংস্কৃতির চিরতরে মূলোৎপাটন করতে হবে।
ফুটপাত উদ্ধারের এই অভিযানের ফলে একদিকে যেমন রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে যানজট পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি নিয়েও নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তবে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হলে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের ওপর এর সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অর্থনীতিবিদ ও নগর বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন। সুশৃঙ্খল নগরী গড়ে তুলতে হকার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানের রূপরেখাও জরুরি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বিশেষ অভিযানের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে এবং নিয়মিত তদারকির জন্য বিশেষ টিম মাঠে কাজ করবে। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে যদি ফুটপাতগুলো স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হয়, তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে ঢাকার সামগ্রিক নাগরিক সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২৪টিভি লাইভ-এর বিশেষ সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অতীতেও বহুবার ফুটপাত উদ্ধারে নামমাত্র উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও ধারাবাহিকতার অভাবে তা স্থায়ী রূপ পায়নি। বর্তমান ডিএসসিসি প্রশাসনের এই সরাসরি মামলা ও মালামাল ক্রোক করার ঘোষণা যদি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবেই কেবল নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বার্থ সুরক্ষায় এই ধরনের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের পূর্ণ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।