অধিকৃত পশ্চিম তীরে কঠোর অবরোধ আরোপের পর অন্তত ১৫টি শহর ও জনপদে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। হেবরনে সাম্প্রতিক এক হামলার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পাইকারি গ্রেফতার ও সামরিক অভিযানের ঘটনা ঘটে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও জনপদে নতুন করে ব্যাপক সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় অন্তত ১৫টি শহর এবং জনপদে একযোগে এই অভিযান চালানো হয়েছে। পূর্বঘোষিত কঠোর অবরোধ ও নিরাপত্তা বিধিনিষেধের মাঝেই ইসরাইলি সেনারা এই অভিযান পরিচালনা করে, যার ফলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ পঙ্গু হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি হেবরন শহরে ফিলিস্তিনিদের একটি সশস্ত্র হামলায় দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার পর পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে সামরিক তৎপরতা তীব্র করে তেল আবিব। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো অঞ্চলে কঠোর অবরোধ আরোপ করা হয়, যার আওতায় বিভিন্ন শহরের যাতায়াত পথ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তল্লাশি চৌকিগুলোতে নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই অবরোধ ও অভিযানের অংশ হিসেবে গভীর রাতে সাধারণ মানুষের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়ে বহু ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের অনেককে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্রগুলো। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর দাবি, নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা এবং সন্দেহভাজন বিরোধীদের দমন করতেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধরনের নির্বিচার আটক এবং অবরুদ্ধ জনপদে সামরিক আগ্রাসনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও বেশি সংঘাতময় ও জটিল করে তুলছে।
এদিকে এই অভিযানের ফলে পশ্চিম তীরের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও ইসরাইলি কতৃর্পক্ষ পশ্চিম জুড়ে তাদের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।