মাত্র দশটি হাঁসের ডিম দিয়ে যাত্রা শুরু করে আজ ১৬ একরের বিশাল খামারের মালিক হয়েছেন বিবি রহিমা। তার এই সফলতায় বদলে গেছে পুরো পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ও জীবনযাত্রার মান।
মাত্র দশটি হাঁসের ডিম দিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু করা উদ্যোগ আজ রূপ নিয়েছে একটি সফল ও বিশাল কৃষি খামারে। ১৬ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা এই খামারের বর্তমান স্বত্বাধিকারী বিবি রহিমা তার উদ্যোক্তা জীবন ও সংগ্রামের পেছনের গল্প শুনিয়েছেন। অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর কঠোর পরিশ্রমের বলে তিনি আজ স্বাবলম্বী। প্রান্তিক এই নারী প্রমাণ করেছেন যে, সঠিক পরিকল্পনা ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং সমাজ পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন।
খামারের নিয়মিত আয় থেকেই মূলত তার পরিবারের দীর্ঘদিনের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে এসেছে। রহিমা জানান, এই খামারের লাভের অর্থ দিয়েই তিনি তার দুই ছেলে ও চার মেয়ের পড়াশোনার খরচসহ সংসারের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করেছেন। সন্তানদের সুশিক্ষিত করে তোলার ক্ষেত্রে এই খামারের অবদান অপরিসীম। প্রাথমিক পর্যায়ে নানা প্রতিকূলতা ও পুঁজির সংকট থাকলেও তিনি কখনোই হাল ছাড়েননি। তিল তিল করে গড়ে তোলা এই খামার আজ তার পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিবি রহিমার এই সফলতার যাত্রা আশপাশের এলাকার বহু নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করছে। অনেকেই এখন তার দেখাদেখি হাঁস-মুরগি পালন ও কৃষি খামার গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছেন। স্থানীয় সমাজ ও অর্থনীতিতে তার এই অবদান সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এ ধরনের নারী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হলে গ্রামীণ জনপদে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নারী ক্ষমতায়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
বর্তমান সময়ে বিবি রহিমার খামারটি কেবল একটি পারিবারিক আয়ের উৎস নয়, বরং এটি নারী জাগরণ ও স্বাবলম্বিতর এক উজ্জ্বল প্রতীক। সমাজের নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে সফল খামারি হয়ে ওঠার এই পথচলা দেশের অন্যান্য নারীদের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক। তার এই অর্জন প্রমাণ করে যে, সুযোগ এবং সদিচ্ছা থাকলে নারীরাও যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সফলতার শিখরে পৌঁছাতে পারেন।