ফেনীতে ওএমএস কর্মসূচিতে প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও চাল ও আটা না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন সাধারণ মানুষ। নির্ধারিত মূল্যে পণ্য পাওয়ার কথা থাকলেও অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের।
ফেনী প্রতিনিধি:
ফেনীতে সরকারের খোলা বাজার বিক্রয় বা ওএমএস (Open Market Sale) কর্মসূচিতে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অপ্রতুল থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক ক্রেতা প্রয়োজনীয় চাল ও আটা না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে স্বল্পমূল্যের এই খাদ্যপণ্যগুলোর ওপর খেটে খাওয়া মানুষের নির্ভরতা বাড়লেও সরবরাহ সংকটের কারণে তা অপ্রতুল হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে ফেনী শহরের একাধিক ওএমএস কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই এসব বিক্রয়কেন্দ্রের সামনে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কেন্দ্রগুলোতে প্রতিজন ক্রেতা সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি চাল এবং পাঁচ কেজি আটা কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। এখানে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা এবং প্রতি কেজি আটা ২৪ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারদরের চেয়ে এই দাম অনেক কম হওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় রিকশাচালক, দিনমজুর ও নিম্নমধ্যবিত্তদের। তবে বেশিরভাগ কেন্দ্রেই ডিলারের বরাদ্দ ফুরিয়ে যাওয়ার অজুহাতে লাইনের শেষ দিকের মানুষগুলোকে হতাশ হয়ে ফিরতে হয়।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র রোদ কিংবা গরমের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় খাদ্যপণ্য মিলছে না। ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় তারা চাহিদামতো পণ্য বিতরণ করতে পারছেন না। বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় ওএমএস পণ্যের চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু সেই অনুপատকে সরকারি বরাদ্দ অপরিবর্তিত থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং দ্রুত বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় এই খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ওএমএস ব্যবস্থার মনিটরিং আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।