শিক্ষা ও সংস্কৃতির জনপদ কুমিল্লায় অপরাধপ্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দশ মাসে জেলায় ১২০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রাচীন ঐতিহ্যের জনপদ হিসেবে পরিচিত কুমিল্লায় দিন দিন deteriorates হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে জেলায় প্রায় ১২০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে, যা সমগ্র দেশজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
একাধিক মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধ, পূর্ব শত্রুতা, আধিপত্য বিস্তার এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের কারণে এসব হত্যাকাণ্ডের বেশিরভাগ ঘটনা ঘটেছে। শুধু খুনোখুনিই নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বেড়েছে অস্ত্রের মহড়া এবং প্রকাশ্য ছিনতাইয়ের ঘটনা। রাতের পাশাপাশি ব্যস্ততম দিনেও সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ছিনতাইকারীদের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে মহাসড়কগুলোতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; এর জন্য অপরাধের মূল উৎপাটন এবং গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, সামাজিক অবক্ষয় রোধে স্থানীয় নেতৃত্ব ও যুবসমাজকে সচেতন করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুমিল্লা জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ চিরুনি অভিযান এবং টহল বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে সচেতন মহল বলছে, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ থামানো অসম্ভব হবে। সাধারণ মানুষ এখন দ্রুত স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছে।