জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের আপামর জনতাকে দলমত-নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ফকরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি ও জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। তাদের সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেয়েছিল এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন যে, এই দিনের চেতনা আমাদের জাতীয় জীবনে গভীর প্রেরণা জোগায় এবং যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে দেশ ও জাতির স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়।
রাষ্ট্রপতি ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যেকোনো জাতির জন্য একটি চলমান প্রক্রিয়া। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে যে সংহতি প্রদর্শিত হয়েছিল, তা আজও আমাদের জাতীয় সংহতির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি মনে করেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের অবশ্যই বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিতে হবে। বর্তমান সময়ে বিশ্বব্যাপী যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটছে, তার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য। রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য। তিনি বিশ্বাস করেন যে, যদি আমরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ৭ নভেম্বরের সংহতির আদর্শকে ধারণ করতে পারি, তবে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে একটি উন্নত ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।
রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কল্যাণে সবাইকে এক বিন্দুতে মিলিত হতে হবে। তিনি বলেন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অর্থ হলো এমন একটি সমাজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যেখানে প্রতিটি মানুষের অধিকার সংরক্ষিত থাকবে এবং কেউ শোষণের শিকার হবে না। নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি মনে করেন, তরুণ প্রজন্মকে এই ঐতিহাসিক দিনগুলোর সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তার মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লব কেবল একটি সামরিক অভ্যুত্থান ছিল না, বরং এটি ছিল আধিপত্যবাদ ও বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ। সেই সময়ে দেশের সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির মুখে ছিল, তখন সিপাহি ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এক চরম অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা করেছিল। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই সংহতির গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা ধারণ করে দেশবাসী একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। পরিশেষে রাষ্ট্রপতি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন এবং দেশবাসীকে জাতীয় সংহতি দিবসের শুভেচ্ছা জানান।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যের শেষাংশে বলেন, বাংলাদেশ একটি অমিত সম্ভাবনার দেশ। আমাদের রয়েছে বিশাল জনশক্তি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ। সঠিক নেতৃত্ব এবং জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে আমরা এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির শিখরে নিয়ে যেতে পারি। ৭ নভেম্বরের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং সুশাসনের পক্ষে অবস্থান নিতে পারি, তবেই একটি বৈষম্যহীন সমাজ গঠন সম্ভব হবে। তিনি সকলকে প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দেশের সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির এই আহ্বান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে, যা একটি স্থিতিশীল ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার পথে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!