শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ / সকাল ৬:৫৩ঢাকা, বাংলাদেশ যোগাযোগ ↗
এইমাত্র
সংবাদ

হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প: মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ধাক্কার পর কট্টর অভিবাসন নীতি প্রণেতাকে প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বে এনে ওয়াশিংটনে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প: মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ধাক্কার পর কট্টর অভিবাসন নীতি প্রণেতাকে প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্বে এনে ওয়াশিংটনে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ

ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহচর, শীর্ষ নীতি নির্ধারক এবং বিতর্কিত কট্টর অভিবাসন নীতির প্রধান রূপকার স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে আনুষ্ঠানিক নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদলের বিষয়টি বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করেন। ট্রাম্প তাঁর বার্তায় মিলারকে তাঁর ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপদেষ্টাদের একজন’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, আগামী সোমবার থেকেই মিলার আনুষ্ঠানিকভাবে হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসনিক শীর্ষ পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। মিলার এতদিন ধরে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ নীতি ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।

এই শীর্ষ রদবদলের মধ্য দিয়ে স্টিফেন মিলার হোয়াইট হাউসের বর্তমান চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। সুসি ওয়াইলস ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের সূচনালগ্নে দায়িত্ব গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নারী হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ হওয়ার অনন্য ইতিহাস গড়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে ট্রাম্প সুসি ওয়াইলসের প্রশাসনিক সেবার আন্তরিক প্রশংসা করে লেখেন, ‘চিফ অব স্টাফ হিসেবে সুসির অসাধারণ ও নিষ্ঠাপূর্ণ সেবার জন্য আমি তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তিনি অসাধারণ দক্ষতায় তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও স্পষ্ট করেন যে, প্রশাসনিক পদ ছাড়লেও সুসি ওয়াইলস তাঁর বলয় ত্যাগ করছেন না; বরং তিনি এখন থেকে ট্রাম্পের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিচালনা, প্রচার কর্মসূচি ও রাজনৈতিক কৌশলের সার্বিক নেতৃত্বের দায়িত্বে সরাসরি যুক্ত থাকবেন।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে স্টিফেন মিলারকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উভয় মেয়াদের সবচেয়ে কট্টরপন্থী, আদর্শিকভাবে আপসহীন এবং বিশ্বস্ততম সহযোগীদের অন্যতম বলে বিবেচনা করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে বিতর্কিত মুসলিম দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করা, সীমান্তে জরুরি সেনা মোতায়েন এবং দেশজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপকভাবে আটকের পর নিজ নিজ দেশে গণবহিষ্কারের যে আক্রমণাত্মক ও কঠোর রাষ্ট্রীয় রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, তার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন এই স্টিফেন মিলার। সদ্য অনুষ্ঠিত মার্কিন মধ্যবর্তী জাতীয় নির্বাচনে এই অভিবাসন ইস্যু এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ি দেশজুড়ে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক বিতর্ক ও মেরুকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।

ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নভেম্বরের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এবং উচ্চকক্ষ সিনেট—উভয় কক্ষেই ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটেই এই প্রশাসনিক চাল দিয়েছেন ট্রাম্প। আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বুঝে পাওয়ার পরপরই নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ, সীমান্ত অভিযান এবং রাষ্ট্রীয় খরচের বিষয়ে ব্যাপক তদন্ত ও আইনি তল্লাশি শুরু করবেন বলে ইতোমধ্যে স্পষ্ট সংকেত দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্তের প্রধান লক্ষ্যবস্তুগুলোর তালিকায় শুরু থেকেই স্টিফেন মিলারের নাম অগ্রগণ্য হিসেবে উচ্চারিত হচ্ছে। এমন এক প্রতিকূল রাজনৈতিক বাস্তবতায় তুলনামূলক মধ্যপন্থী সুসি ওয়াইলসকে সরিয়ে যুদ্ধংদেহী মনোভাবের স্টিফেন মিলারকে হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক ইঞ্জিন পরিচালনার দায়িত্ব দিয়ে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে আপসের পথে না গিয়ে সরাসরি রাজনৈতিক সংঘাত ও নীতিগত লড়াইয়ের পথেই হাঁটতে প্রস্তুত।

হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ পদটিকে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পর সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রশাসনিক পদ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রেসিডেন্টের সার্বিক সময়সূচি, ক্যাবিনেট সচিবদের তদারকি, ওভাল অফিসে প্রবেশের ছাড়পত্র নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি নীতি বাস্তবায়নের মূল সমন্বয়ের কাজটি এই পদ থেকেই পরিচালিত হয়ে থাকে। স্টিফেন মিলারের মতো এক আপসহীন ও কড়া মেজাজের নীতিনির্ধারকের হাতে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সমর্পণের ফলে আগামী দুই বছর ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা আরও কঠোর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিবাসন নীতিতে কোনো প্রকার নমনীয়তা প্রদর্শনের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ হয়ে গেল, যা মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন ও তীব্র সংঘাতময় মেরুকরণের সূচনা করবে।

সূত্র: Prothom Alo - Latest

মতামত (০)

এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।

বিজ্ঞপ্তি

এটি 24TV.Live এর বেটা সংস্করণ। আপনার মতামত জানান।

মতামত দিন ↗
অ্যাপ ডাউনলোড Android Android TV