ভারতের কেরালা রাজ্যে এক ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে যৌন নিপীড়ন মামলার এক আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভুক্তভোগী শিশুকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। কেরালার এরনাকুলাম জেলায় সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আদনান, যিনি এরনাকুলাম জেলার আরাক্কাপ্পাডির নিকটবর্তী পেরুমানি এলাকার বাসিন্দা। সোমবার দুপুরে ওই শিশুটির বাড়িতে ঢুকে আদনান তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে যখন শিশুটি তার বাড়িতে অবস্থান করছিল, তখন অভিযুক্ত মোহাম্মদ আদনান অতর্কিতে সেখানে প্রবেশ করে। বাড়িতে ঢুকে সে প্রথমে শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং এক পর্যায়ে একটি ধারালো ছুরি বের করে তার গলা কাটার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আদনান শিশুটিকে ঘর থেকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনে এবং অত্যন্ত নৃশংসভাবে আক্রমণ চালায়। এই সময় শিশুটি নিজেকে রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা করলে তার দুই হাতেই গভীর ক্ষত তৈরি হয়। শিশুটির আর্তচিৎকার শুনে পাশের বাড়ির এক তরুণ প্রতিবেশী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পরিস্থিতি অনুধাবন করে তাৎক্ষণিকভাবে বাধা দেন।
উদ্ধারকারী ওই প্রতিবেশী জানান, তিনি যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছান, তখন দেখেন আদনান শিশুটির গলায় ছুরি ধরে তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই যুবক আক্রমণকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এই ধস্তাধস্তির সময় প্রতিবেশী যুবক নিজেও ছুরির আঘাতে আহত হন। তার সাহসিকতাপূর্ণ হস্তক্ষেপের কারণেই শিশুটি নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়। প্রতিবেশীর বাধার মুখে পড়ে অভিযুক্ত আদনান ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মোহাম্মদ আদনানের বিরুদ্ধে এর আগে একটি পকসো (POCSO) বা যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা আইনের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মূল মামলাটি নিবন্ধিত হয়েছিল ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট (উৎস অনুযায়ী ২০২৬ উল্লেখ থাকলেও তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে ২০২৪ হিসেবে গণ্য)। উক্ত মামলায় প্রায় আড়াই মাস বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর গত ১৮ অক্টোবর আদালত থেকে জামিন পায় আদনান। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সে ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে এবং ভুক্তভোগীর জীবনের ওপর হুমকি সৃষ্টি করে আদনান এই জঘন্য হামলা চালায়।
হামলার পর আদনান পার্শ্ববর্তী একটি জঙ্গলে আত্মগোপন করেছিল। পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালায় এবং এক পর্যায়ে জঙ্গল থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার জামিন বাতিল করে পুনরায় বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই ঘটনাটি জামিনে থাকা আসামিদের দ্বারা ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে পকসো আইনের মতো সংবেদনশীল মামলায় আসামিরা মুক্তি পাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা কতটা সুরক্ষিত থাকে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। বর্তমানে শিশুটি এবং আহত প্রতিবেশী যুবক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।
পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, বিষয়টির গতিপ্রকৃতি নীতিনির্ধারক ও সাধারণ পাঠকদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার সূত্রপাত থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!