চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নে সাঙ্গু নদীর তীব্র ভাঙনে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছে। এতে স্থানীয় বসতবাড়ি, মসজিদ, কবরস্থান ও গ্রামীণ জনপথ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নে সাঙ্গু নদীর ভাঙন পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার প্রবল বর্ষণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার একমাত্র প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় নদীভাঙনের মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের তোড়ে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে ইউনিয়নের বেশ কিছু জনবহুল এলাকা নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কগুলোও চরম হুমকির মুখে পড়েছে। নদীভাঙনের এই আকস্মিক রূপ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।
ভাঙনের তীব্রতার কারণে বাজালিয়া এলাকার বহু বসতঘর, স্থানীয় মসজিদ, প্রাচীন কবরস্থান এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষ তাদের একমাত্র আয়ের উৎস কৃষিজমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত না করা হলে আসন্ন বর্ষায় পুরো জনপদ মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিং এবং স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এই জনপদকে রক্ষা করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভাঙনকবলিত এলাকা পরির্দশন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জরুরি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।