ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম অংশে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। সিএনজি অটোরিকশা ও মিশুক চালকের ছদ্মবেশে চলা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রাতের আঁধারে তো বটেই, এমনকি প্রকাশ্য দিবালোকেও মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন সাধারণ পথচারী ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় পুরো অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও ভীতি বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র অত্যন্ত সুকৌশলে এই অপরাধগুলো চালিয়ে যাচ্ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ব্যাটারিচালিত মিশুক চালকের ছদ্মবেশ ধারণ করে তারা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য এসব যানবাহনে উঠলেই চক্রের সদস্যরা তাদের নির্জন স্থানে নিয়ে সর্বস্ব লুটে নেয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করলে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে যাত্রীদের মারধর কিংবা জখম করার মতো গুরুতর ঘটনাও ঘটছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে নারী যাত্রীরা এই চক্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। নারী যাত্রীদের একা পেলেই চক্রটি তাদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার, দামি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিচ্ছে। প্রায় প্রতিদিনই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল ও নজরদারি সত্ত্বেও এই অপরাধ প্রবণতা রোধ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এমতাবস্থায় মহাসড়কটির নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ করতে জরুরি ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। চৌদ্দগ্রামসহ সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট বসানো এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় এই মহাসড়কে অপরাধ আরও মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।