শারদীয় দুর্গোৎসবের দীর্ঘ ছুটিতে প্রকৃতির টানে সিলেটে ভিড় জমিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা। মালনীছড়া ও লাক্কাতুরা চা-বাগানের সবুজ প্রকৃতি ও আঁকাবাঁকা পথ এখন ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত।
শারদীয় দুর্গোৎসব ও সাপ্তাহিক ছুটির দীর্ঘ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র সিলেটে ভ্রমণপিপাসুদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। বিশেষ করে উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ চা-বাগান হিসেবে পরিচিত সিলেটের মালনীছড়া এবং লাক্কাতুরা চা-বাগানগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সবুজ চা-গাছের অন্তহীন সারি, টিলার আঁকাবাঁকা মেঠোপথ এবং নীল আকাশের মিতালি দেখতে শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষই ছুটে আসছেন এখানে।
প্রকৃতির এই রূপ লাবণ্য উপভোগ করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে সিলেটে এসে পৌঁছান। বাগানের স্নিগ্ধ পরিবেশ, চা-কন্যার চা পাতা তোলার দৃশ্য এবং চারপাশের সবুজের সমারোহ পর্যটকদের মনে আলাদা প্রশান্তি এনে দিচ্ছে। ব্যস্তান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে এই নৈসর্গিক পরিবেশে কিছু সময় কাটাতে পেরে আনন্দিত ভ্রমণপিপাসুরা। ছুটির দিনগুলোতে চা-বাগানগুলোর প্রবেশদ্বার ও ভেতরের সড়কগুলোতে দর্শনার্থীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
পর্যটকদের এই আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীদের মাঝেও চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। পরিবহন চালক, হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় ফুড কর্নারগুলোর ব্যবসা বেশ জমে উঠেছে। তবে পর্যটকদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চা-বাগানের পরিবেশ রক্ষা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও বাগান কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে যাতে দর্শনার্থীরা কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন।
পরিবেশবিদ ও পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে টেকসই পর্যটন নীতি বাস্তবায়ন জরুরি। অপরিকল্পিতভাবে পলিথিন ও প্লাস্টিক ফেলা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি বাগানগুলোর প্রাকৃতিক রূপ অক্ষুণ্ণ রাখতে দর্শনার্থীদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। সার্বিকভাবে, এবারের পূজার ছুটিতে সিলেটের চা-বাগানগুলো এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পকে আরও বেশি গতিশীল করে তুলছে।