বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনীতে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহত্তর নোয়াখালীর অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং প্রধান বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী দিনদিন অপরাধীদের নিরাপদ জোনে বা অভয়ারণ্যে পরিণত হচ্ছে। একসময়ের জমজমাট ও ব্যস্ত এই জনপদে বর্তমানে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি এবং জবরদখলের মতো অপরাধ নিত্যদিনের ঘটনায় রূপ নিয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিদের চলাফেরা এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের বেপরোয়া উৎপাত এবং প্রকাশ্য গোলাগুলির ঘটনায় গোটা এলাকায় এক ধরনের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে, যা স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চৌমুহনী শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল ও মোটেলে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব হোটেল অপরাধচক্রের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্মের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় অপরাধীরা সহজেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। রাতে তো বটেই, অনেক ক্ষেত্রে দিনেদুপুরেও প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে, যা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলার এই চরম অবনতির কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অনেক ব্যবসায়ী নিরাপত্তাহীনতার কারণে সন্ধ্যার পর দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। তাছাড়া, সাধারণ মানুষ ও ক্রেতারাও এই শহরে আসতে ভয় পাচ্ছেন। অথচ চৌমুহনী নোয়াখালীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হওয়ায় এখানে বাণিজ্যিক লেনদেন সচল রাখতে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা অতীব জরুরি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে চৌমুহনীতে কঠোর পুলিশি টহল জোরদার এবং আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত অভিযানের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। সাধারণ জনগণের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে চৌমুহনীকে অপরাধমুক্ত করবে এবং ব্যবসায়িক ও সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।