ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠে অভিবাসীদের লক্ষ্য করে চালানো প্রাণঘাতী গুলির ঘটনাকে একটি 'বর্ণবাদী সন্ত্রাসী হামলা' হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এই নারকীয় হামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বন্দুকধারীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের উপকণ্ঠে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে চালানো এক প্রাণঘাতী বন্দুক হামলার ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি এই ন্যক্কারজনক ঘটনাকে স্পষ্টভাষায় 'বর্ণবাদী সন্ত্রাসী হামলা' বলে আখ্যায়িত করেছেন। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এক বিবৃতিতে নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ফরাসি সমাজে কোনো ধরনের বর্ণবিদ্বেষ বা চরমপন্থার জায়গা নেই বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্যারিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ট্রেপস শহরে প্রথম গুলির ঘটনাটি ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর বন্দুকধারী পার্শ্ববর্তী লা ভেরিয়েরে এলাকায় গিয়ে পুনরায় আক্রমণ শুরু করে। হামলাকারী নিজের চলন্ত গাড়ি থেকেই পথচারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা এই আকস্মিক ও নৃশংস হামলায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বন্দুকধারী মূলত অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েই একের পর এক গুলি ছোড়ে। হামলার পরপরই দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার পরপরই ওই অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ কৌঁসুলিরা হামলার পেছনে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছেন। অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এমন পরিকল্পিত সহিংসতা ফ্রান্সে চলমান অভিবাসন বিতর্ক এবং উগ্র বর্ণবাদের বিস্তারকে আবারও বড় ধরনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন সরকারের কাছে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।