প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উপকূলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসেবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উপকূলে আঘাত হেনেছে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস (USGS)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। বিশাল এই ভূকম্পনের ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন বা আন্তর্জাতিক কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর নিশ্চিত করা হয়নি।
ইউএসজিএস সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূগর্ভের নির্দিষ্ট গভীরে এবং এর তীব্রতা বেশ জোরালো ছিল। ভানুয়াতু অঞ্চলটি ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানে প্রায়শই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে। এর আগেও এই দ্বীপাঞ্চলে বেশ কয়েকবার বড় ধরনের ভূমিকম্পের নজির রয়েছে। বর্তমান এই ভূমিকম্পের পর স্থানীয় আবহাওয়া ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
শক্তিশালী এই ভূকম্পনের পর প্রাথমিকভাবে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠার বা সুনামির কোনো ঝুঁকি নেই। তবুও উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের ছোটখাটো আফটারশক বা পরবর্তী কম্পন থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় প্রশাসন জরুরি পরিষেবাগুলোকে প্রস্তুত রেখেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভানুয়াতুর মতো দ্বীপরাষ্ট্রগুলোতে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সব সময় প্রস্তুত থাকা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তন এবং ভূ-গঠনগত পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলের দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। বর্তমান এই ভূমিকম্পের পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে যেকোনো ধরনের মানবিক সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।