জামালপুরের মাদারগঞ্জে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি মুজিব কিল্লা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে স্থাপনাগুলো স্থানীয় মাদকসেবী ও বখাটেদের প্রধান আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষ ও গবাদিপশুর নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি মুজিব কিল্লা এখন পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয় ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নদী ভাঙনকবলিত ও বন্যাপ্রবণ এই অঞ্চলের মানুষের জানমাল রক্ষার্থে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এই আশ্রয়কেন্দ্র দুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা এবং উদাসীনতার কারণে কিল্লা দুটি স্থানীয় জনগণের কোনো উপকারে আসছে না।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার না করায় এবং কোনো ধরনের তদারকি না থাকায় কিল্লা দুটির ভেতরের কক্ষগুলোর দরজা-জানালা ও মূল্যবান fittings নষ্ট হয়ে গেছে। ভবনগুলোর দেওয়াল এবং চারপাশের আঙিনায় জন্মেছে লতাগুল্ম ও আগাছা। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, রাতের বেলা এই স্থাপনাগুলো মাদকসেবী ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ আখড়ায় পরিণত হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
প্রকল্প বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল আকস্মিক বন্যা বা ঘুর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় গবাদিপশুসহ দুর্গত মানুষ যেন দ্রুত আশ্রয় নিতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে সরকারি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয়ের উপক্রম হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে কিল্লা দুটির আইনি ও প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিত করে সেগুলোকে সচল করা হোক, যাতে জরুরি মুহূর্তে এলাকাবাসী এর সুফল পেতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা জানান, পরিত্যক্ত হয়ে পড়া মুজিব কিল্লা দুটিকে পুনরায় জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সাথে সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল জোরদার করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে, যাতে কিল্লা চত্বরকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটতে না পারে।