বর্ষার শেষ ও শরতের শুরুতে রাজধানীজুড়ে জমে উঠেছে টক-মিষ্টি স্বাদের আমড়ার বেচাকেনা। ভাদ্র মাসের এই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আমড়ায় সয়লাব রাজধানীর অলিগলি ও পাইকারি বাজারগুলো।
বাঙালির চিরচেনা ফলগুলোর মধ্যে আমড়া অন্যতম, যা এই মৌসুমে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাদামতলীসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে আমড়ার সরবরাহ বেশ সন্তোষজনক। বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুমের এই সময়ে প্রতিদিন শত শত মণ আমড়া রাজধানীতে প্রবেশ করছে এবং ক্রেতাদের চাহিদাও রয়েছে তুঙ্গে। বিশেষ করে ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে আমড়ার ভরা মৌসুম থাকায় সাধারণ ক্রেতারা সাশ্রয়ী মূল্যে এই ফল কিনতে পারছেন।
ফলের বাজারগুলোতে বর্তমানে প্রতি হালি আমড়া আকার ভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে পাল্লা বা মণে আমড়া কেনাবেচা করছেন ব্যবসায়ীরা। নরসিংদী, টাঙ্গাইল, বরিশাল ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এই আমড়াগুলো ট্রাকে করে রাজধানীতে আসছে। মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা জানান, বর্ষার এই আর্দ্র আবহাওয়া এবং মানুষের খাদ্যাভ্যাসে ভিটামিন সি-এর চাহিদার কারণে আমড়ার প্রতি মানুষের আকর্ষণ সবসময়ই বেশি থাকে। ভ্যানগাড়ি কিংবা ফুটপাতের হকার থেকে শুরু করে অভিজাত সুপারশপ—সবখানেই এখন আমড়ার সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, আমড়াতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও আয়রন রয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর। মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে সর্দি-কাশি ও অন্যান্য সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে মানুষ নিয়মিত আমড়া খাচ্ছেন। এছাড়া গৃহিণীরা আমড়া দিয়ে আচার, চাটনি ও টক রান্না করতে পছন্দ করেন, যা এর বাণিজ্যিক চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাইকারি বিক্রেতারা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং সরবরাহ ঠিক থাকলে মৌসুমের বাকি দিনগুলোতেও আমড়ার এই জমজমাট ব্যবসা অব্যাহত থাকবে।