সারা দিন বড়শি ফেলে ধরলেন একটি কাতলা, তাতেই জিতে নিলেন দুই লাখ টাকা

মাছ ধরার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আজ শুক্রবার ভোরে ২৬ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটেন মো. নাছির মিয়া (৫০)। শৌখিন এই মাছশিকারি বিকেল চারটার দিকে শিকার করেন প্রায় সাত কেজি (৬ কেজি ৮৮৫ গ্রাম) ওজনের একটি কাতলা মাছ। এই এক কাতলাতেই তিনি প্রথম হয়ে পুরস্কার জিতেছেন দুই লাখ টাকা।সকাল থ...
মাছ ধরার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আজ শুক্রবার ভোরে ২৬ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কাটেন মো. নাছির মিয়া (৫০)। শৌখিন এই মাছশিকারি বিকেল চারটার দিকে শিকার করেন প্রায় সাত কেজি (৬ কেজি ৮৮৫ গ্রাম) ওজনের একটি কাতলা মাছ। এই এক কাতলাতেই তিনি প্রথম হয়ে পুরস্কার জিতেছেন দুই লাখ টাকা।
সকাল থেকে বড়শি ফেলে অপেক্ষায় থাকলেও কাতলা মাছটি ধরার আগে–পরে আর কোনো মাছ শিকার করতে পারেননি নাছির। তবে শেষ হাসিটি হাসলেন তিনিই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়া গ্রামের বীরেশ দিঘিতে বড়শি দিয়ে আজ মাছ ধরার প্রতিযোগিতা হয়।
জনপ্রতি ২৬ হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ২৪ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। এতে আয়োজকেরা পেয়েছেন প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার টাকা। আর ২৪ জন প্রতিযোগীর জন্য ছিল ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকার পাঁচটি পুরস্কার।
.আজ সকাল সোয়া ছয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলে মাছ শিকার। সরেজমিনে দেখা যায়, দিঘির চারপাশে ২৪টি মাচায় (আসন) বসেন প্রতিযোগীরা। তাঁদের আসন লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
মাছ শিকার নিয়ে দিনভর দিঘির পাড়ে ছিল উচ্ছ্বাস। কেউ মাছের খাবার প্রস্তুত করছেন, কেউ বড়শি ফেলে অপেক্ষা করছেন। মাঝেমধ্যেই আওয়াজ ওঠে।
বড় মাছ, বড় মাছ বলে হইহুল্লোড় করেন শিকারি ও তাঁদের সহযোগীরা। কথা বলে জানা গেছে, একজন প্রতিযোগীকে মাছ ধরতে টিকিট কেনা ছাড়াও আনুষঙ্গিক ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। .আমি সারা দিনে আর কোনো মাছ শিকার করতে পারিনি।
শেষ মুহূর্তে একটি মাছ শিকার করলেও প্রথম পুরস্কার পেয়েছি; ভালোই লাগছে। এর আগের আসরে (গত ১৬ অক্টোবর) এখানে বড় একটি কাতলা মাছ ধরে শেষ পর্যন্ত জালবন্দী করতে পারিনি। ওই সময়ের কষ্ট আজ ভুলে গেছি।
মো. নাছির মিয়া, প্রথম পুরস্কার বিজয়ী.ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ থেকে প্রতিযোগীরা এসেছেন। দিঘিটিতে ৫ থেকে ১০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ রয়েছে বলে দাবি আয়োজকদের। .প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার নির্ধারণ করা ছিল দুই লাখ টাকা।
দ্বিতীয় পুরস্কার এক লাখ টাকা। তৃতীয় পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা। চতুর্থ ও পঞ্চম পুরস্কার ছিল যথাক্রমে ৪৫ ও ৪০ হাজার টাকা করে।
দিনভর অপেক্ষার পর বিকেল চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডা এলাকার নাছির মিয়ার বড়শিতে ধরা পড়ে ৬ কেজি ৮৮৫ গ্রাম ওজনের একটি কাতলা মাছ। এর আগে–পরে তিনি কোনো মাছ শিকার করতে পারেননি। এই এক কাতালাতেই বাজিমাত করে জিতে নেন প্রথম পুরস্কার দুই লাখ টাকা।
.নাছির মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি সারা দিনে আর কোনো মাছ শিকার করতে পারিনি। ’.এ ছাড়া হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতালা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন সকাল সাতটা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত ৬ কেজি ৭৪০ গ্রাম ও ৬ কেজি ৪৮৫ গ্রাম ওজনের দুটি কাতালা ধরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয়ে পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন যথাক্রমে ১ লাখ ও ৫০ হাজার টাকা। একই এলাকার কাউছার মিয়া ৫ কেজি ৫২০ গ্রাম ও ৫ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের দুটি কাতলা শিকার করে চতুর্থ ও পঞ্চম হয়ে পেয়েছেন যথাক্রমে ৪৫ ও ৪০ হাজার টাকা।
.পৌনে তিন একরের বীরেশ দিঘিতে সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্প নামের একটি সমিতি প্রতিবছর কয়েকবার মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতা দেখতে দিঘির চারদিকে প্রচুর দর্শকেরও সমাগম ঘটে। সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্পের সভাপতি আলী মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, এখানে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা হয়।
এটি এ বছরের সপ্তম আয়োজন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শৌখিন মৎস্যশিকারিরা এখানে অংশ নেন। .বড়শি ফেলে বড় মাছের অপেক্ষা, ২৪ জনের মধ্যে কে পাবেন লাখ টাকা পুরস্কার।



মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।