সিডনি থান্ডার নারী বিগ ব্যাশ লিগের (ডব্লিউবিবিএল) ইতিহাসে ড্রাময়েন ওভালে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার নতুন রেকর্ড গড়ে ব্রিসবেন হিটকে ৬ উইকেটে পরাজিত করেছে। ব্রিসবেন হিটের দেওয়া ১৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে থান্ডার মাত্র ১৬.৪ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। এই হারের মাধ্যমে ব্রিসবেন হিটের জয়হীন থাকার দীর্ঘ খরা আরও দীর্ঘায়িত হলো, যা এখন ১২টি ম্যাচ এবং ৭০২ দিনে গিয়ে ঠেকেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর তারা জয়ের মুখ দেখেছিল। ড্রাময়েন ওভালের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ব্রিসবেন হিট প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৭৮ রান সংগ্রহ করেছিল, যা এই মাঠে ডব্লিউবিবিএল-এর আগের সর্বোচ্চ ১৭১ রানের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু সিডনি থান্ডারের ব্যাটারদের বিধ্বংসী মেজাজের সামনে এই বড় স্কোরও যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি।
ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ব্রিসবেন হিট। ওপেনার গ্রেস হ্যারিস এবং জর্জিয়া রেডমেইন দ্বিতীয় উইকেটে ৯৯ রানের এক বিশাল জুটি গড়েন। গ্রেস হ্যারিস ৩৭ বলে ৫৮ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে তিনি মাঠের চারদিকে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটান। অন্যদিকে জর্জিয়া রেডমেইন ৪৪ বলে ৫৭ রান করে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন। তাদের এই জুটির ওপর ভর করে ব্রিসবেন হিট ১৪তম ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১১৮ রানে পৌঁছে গিয়েছিল। শেষ দিকে ওর্লা প্রেন্ডারগাস্ট ২০ বলে ২৮ রানের একটি কার্যকরী ইনিংস খেললে হিটের সংগ্রহ ১৭৮ রানে পৌঁছায়। তবে ইনিংসের শেষ দিকে থান্ডারের বোলাররা কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ায় ব্রিসবেন হিট তাদের প্রত্যাশিত ২০০ রানের কোটা স্পর্শ করতে পারেনি। থান্ডারের পক্ষে জর্জিয়া ভল ২৫ রানে ২ উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে সিডনি থান্ডার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করে। যদিও ওপেনার জর্জিয়া ভল মাত্র ২ রান করে দ্রুত বিদায় নেন, কিন্তু তরুণ তুর্কি ফিবি লিচফিল্ড উইকেটে এসেই বোলারদের ওপর চড়াও হন। লিচফিল্ড মাত্র ১৯ বলে ৪১ রানের একটি টর্নেডো ইনিংস খেলেন, যা থান্ডারকে পাওয়ার প্লেতে এক বিশাল ভিত গড়ে দেয়। তার ইনিংসে ছিল দৃষ্টিনন্দন সব ড্রাইভ এবং পুল শট। লিচফিল্ড বিদায় নেওয়ার পর অভিজ্ঞ ইংলিশ তারকা হিদার নাইট দলের হাল ধরেন। নাইট ২৯ বলে ৫৪ রানের একটি অপরাজিত এবং বুদ্ধিদীপ্ত ইনিংস খেলেন। তিনি আনিকা লেরয়েডের সাথে ৬৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। লেরয়েড ২৮ বলে ৩৭ রান করে আউট হওয়ার পর লরা হ্যারিস উইকেটে এসে তাণ্ডব শুরু করেন।
লরা হ্যারিস মাত্র ১৬ বলে ৩৫ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যা জয়কে সময়ের ব্যাপারে পরিণত করে। মজার ব্যাপার হলো, জয়ের জন্য যখন মাত্র ৩ রান প্রয়োজন, তখন লরা তার নিজের বোন গ্রেস হ্যারিসের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তবে হিদার নাইট শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। থান্ডার এই ম্যাচে ব্রিসবেন হিটের চেয়ে ছয়টি বেশি চার মেরেছে, যা তাদের ব্যাটিংয়ের আগ্রাসনকে ফুটিয়ে তোলে। ব্রিসবেন হিটের বোলাররা চাপের মুখে লাইন এবং লেংথ বজায় রাখতে ব্যর্থ হন এবং বেশ কিছু আলগা বল করে থান্ডার ব্যাটারদের কাজ সহজ করে দেন। বাসিনথওয়েট ৩১ রানে ২ উইকেট নিলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
ম্যাচ শেষে হিদার নাইট তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন যে, ঘরের মাঠে জয় পাওয়াটা তাদের জন্য এ বছরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। তিনি উইকেটটিকে ব্যাটিংয়ের জন্য অত্যন্ত চমৎকার বলে অভিহিত করেন এবং দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে ব্রিসবেন হিটের গ্রেস হ্যারিস পরাজয়ের গ্লানি মেনে নিয়ে বলেন যে, তাদের ব্যাটাররা যেখানে সিঙ্গেল নিয়েছে, থান্ডারের ব্যাটাররা সেখানে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছে। তিনি প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটিং লাইন-আপের প্রশংসা করে বলেন যে, তারা অত্যন্ত গতিশীল ক্রিকেট খেলেছে এবং বোলারদের ওপর শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করেছে। এই জয়ের ফলে সিডনি থান্ডার টুর্নামেন্টে তাদের টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল।
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!