ব্রেকিং নিউজ

সংবাদ বা বিষয় অনুসন্ধান করুন

24TV.Live
প্রচ্ছদ লাইভ টিভি সংবাদ খেলাধুলা ই-স্পোর্টস পত্রিকা ডিরেক্টরি যোগাযোগ
ক্যাটাগরি সমূহ:
জাতীয় আন্তর্জাতিক ই-স্পোর্টস দেশ ২৪ দেশ সংবাদ রাজনীতি অর্থনীতি খেলাধুলা
খেলাধুলা

বিশ্ব কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে

System Administrator • শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
৫৯ বার পঠিত
বিশ্ব কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে
বিশ্ব কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে ছবি: 24TV.Live

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত হয়েছেন শতাধিক বেসামরিক মানুষ। পোল্যান্ড সতর্ক করেছে, ইউরোপের ভেতরেও রুশ নাশকতায় প্রাণহানি ঘটতে পারে। আর চীনের উপকূলজুড়ে চলেছে টানা ছয় দিনের সামরিক মহড়া। অক্টোবরের মাত্র এক সপ্তাহের...

সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত হয়েছেন শতাধিক বেসামরিক মানুষ। পোল্যান্ড সতর্ক করেছে, ইউরোপের ভেতরেও রুশ নাশকতায় প্রাণহানি ঘটতে পারে। আর চীনের উপকূলজুড়ে চলেছে টানা ছয় দিনের সামরিক মহড়া। অক্টোবরের মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিম ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চল কয়েক দশক ধরে শান্তিপূর্ণ ছিল। এখন সেখানেও যুদ্ধের পদধ্বনি স্পষ্ট।.ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের হিসাবে বিশ্বে এখন ৬৫টি সংঘাত চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীতে চলমান সংঘাতের এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এমন পরিস্থিতিতে একটি স্পর্শকাতর প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে, বিশ্ব কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রধান কূটনৈতিক ভাষ্যকার গিডিয়ন র‍্যাকম্যানের মতে, এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কোনো পূর্বপরিকল্পিত যুদ্ধ নয়। আসল শঙ্কা হলো, পরাশক্তিগুলোর একটি ভুল সিদ্ধান্ত থেকেই শুরু হয়ে যেতে পারে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধ।যুদ্ধের বাস্তবতা কীভাবে বদলে যায়, তা বোঝাতে ২০২২ সালের মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের উদাহরণ দিয়েছেন র‍্যাকম্যান। সেই সম্মেলন শেষ হওয়ার চার দিনের মাথায় ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। সম্মেলনের এক নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের তৎকালীন প্রধান অ্যান্ড্রু শিয়ারার।পুতিনের হামলার পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে বলেছিলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমাদের এমন আলোচনা করতে হচ্ছে, তা বিশ্বাস হচ্ছে না।’.বিশ্বযুদ্ধের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোকে সরাসরি পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঠিক এমনটাই ঘটেছিল।.তখন অনেকেই ভেবেছিলেন পুতিন ফাঁকা আওয়াজ দিচ্ছেন। কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধই শুরু হয়েছিল। ঘটনাটি রুশ বিপ্লবী ট্রটস্কির নামে বহুল প্রচলিত একটি উক্তির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। উক্তিটি হলো—‘আপনি হয়তো যুদ্ধে আগ্রহী নন, কিন্তু যুদ্ধ আপনার ব্যাপারে আগ্রহী।’.বিশ্ব এমন এক সময়ে পৌঁছেছে, যেখানে বিশ্বনেতারা ঘন ঘন ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’ শব্দটি ব্যবহার করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেনকে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা দেওয়া মূলত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে।অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ভাষ্য, পুতিনের ‘আগ্রাসন’ না থামালে বিশ্ব সংঘাতের দিকেই যাবে। তাঁর ভাষায়, ‘পুরো বিশ্বকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা পুতিনকে থামাতে চাই, নাকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা দেখতে চাই।’.ইউরোপীয় নেতারাও রুশ হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে ইউরোপীয়দের সতর্ক করে বলেছেন, পূর্বপুরুষদের দেখা যুদ্ধের মাত্রার জন্যই সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। ইউরোপের বাইরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিয়মিত ‘থুসিডিডিস ট্র্যাপ’ তত্ত্বের কথা বলছেন।এই তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তি ও দ্রুত উত্থানশীল শক্তির মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করে। চীন ইতিমধ্যে নিজেদের নৌবাহিনীকে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বড় করে তুলেছে। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে তাইওয়ান দখলের অঙ্গীকারও করেছে বেইজিং। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে জো বাইডেন অন্তত চারবার বলেছিলেন, আক্রান্ত হলে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সেনা পাঠাবে।.পুরো বিশ্বকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা পুতিনকে থামাতে চাই, নাকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা দেখতে চাই।ভলোদিমির জেলেনস্কির.বিশ্বনেতারা বিশ্বযুদ্ধের কথা বললেও এর সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা কম। বিশ্বযুদ্ধের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রথমত, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশগুলোকে সরাসরি পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঠিক এমনটাই ঘটেছিল।দ্বিতীয়ত, লড়াই একাধিক মহাদেশে ছড়িয়ে পড়তে হবে। এখন পর্যন্ত এই দুটি শর্ত পূরণ হয়নি। তবে ইউরোপে ইউক্রেনের মিত্রদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার ছায়াযুদ্ধ, অগ্নিসংযোগ ও গুপ্তহত্যার চেষ্টা দুর্ঘটনাবশত বড় যুদ্ধ ডেকে আনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের ভাষায়, ‘আমরা যুদ্ধে নেই, তবে শান্তিতেও নেই।’.বিশ্বজুড়ে চলা এসব সংঘাত সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনছে। যুক্তরাজ্যের সরকারের হিসাবে, ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকে প্রায় ১৫ লাখ রুশ সেনা হতাহত হয়েছেন। ইউক্রেনে হতাহতের সংখ্যাও কয়েক লাখে পৌঁছেছে। গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। এর বাইরে আন্তর্জাতিক মনোযোগের আড়ালে থাকা সুদানের সংঘাত থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।.একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আমাদের এমন আলোচনা করতে হচ্ছে, তা বিশ্বাস হচ্ছে না।অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের সাবেক প্রধান অ্যান্ড্রু শিয়ারার.আশঙ্কার বিষয় হলো, বিভিন্ন অঞ্চলের পৃথক সংঘাতগুলো পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে। ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করতে উত্তর কোরিয়ার সেনারা সম্মুখসমরে যোগ দিয়েছেন। জেলেনস্কি একে ‘বিশ্বযুদ্ধের প্রথম পদক্ষেপ’ বলেছেন।অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে ইরান রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তা পেয়েছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এর জবাবে ইউক্রেনও ড্রোন ভূপাতিত করার নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা পশ্চিমা বিশ্বের গভীর উদ্বেগের কারণ। অনেকে একে ‘প্রতিপক্ষের অক্ষ’ বলছেন। ২০২৪ সালে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। ইউক্রেনে আগ্রাসনের ঠিক আগে পুতিন ও সি চিন পিং ঘোষণা করেছিলেন ‘সীমাহীন অংশীদারত্ব’।.পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সামলে রাশিয়ার সামরিক উৎপাদন সচল রাখতে চীনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা ভূমিকা রাখছে। এই চার দেশের সব লক্ষ্য এক নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে তাদের প্রত্যেকের অসন্তোষ রয়েছে। ন্যাটোপ্রধান রুটের আশঙ্কা, চীন ও রাশিয়া ভবিষ্যতে এশিয়া ও ইউরোপে একই সময়ে সমন্বিত সামরিক আক্রমণ শুরু করতে পারে।.র‍্যাকম্যানের মতে, সংঘাত বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ হলো বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন। ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের সময় জি সেভেন জোটের দেশগুলো বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় দুই–তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করত। আন্তর্জাতিক সামরিক ব্যয়ের প্রায় সমান অংশ ছিল তাদের হাতে।২০২২ সালে এসে বৈশ্বিক জিডিপিতে তাদের অংশ নেমে এসেছে ৪৩ শতাংশে। সামরিক ব্যয়ের অংশ দাঁড়িয়েছে অর্ধেকে। পশ্চিমা শক্তির এই আপেক্ষিক দুর্বলতা অসন্তুষ্ট দেশগুলোকে আগ্রাসী হতে উৎসাহিত করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধবিরোধী মনোভাব। ওবামা, ট্রাম্প কিংবা বাইডেন প্রত্যেকেই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ওয়াশিংটনের এই গুটিয়ে যাওয়ার নীতি রাশিয়া ও চীনকে আরও বড় ঝুঁকি নিতে উৎসাহিত করেছে।.ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর থেকে প্রায় ১৫ লাখ রুশ সেনা হতাহত হয়েছেন। ইউক্রেনের হতাহতের সংখ্যাও কয়েক লাখে পৌঁছেছে। গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। এর বাইরে আন্তর্জাতিক মনোযোগের আড়ালে থাকা সুদানের সংঘাত থেকে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।.এই সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জাতীয়তাবাদী নেতাদের পেশিশক্তির রাজনীতি। পুতিন, সি চিন পিং, ট্রাম্প কিংবা নেতানিয়াহুর মতো নেতারা ‘শক্তিই ন্যায়’ নীতিতে বিশ্বাস করছেন। স্টিফেন মিলার সরাসরি বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার নিয়ে আপনি যত খুশি কথা বলতে পারেন। কিন্তু বাস্তব পৃথিবী চলে শক্তি, বলপ্রয়োগ ও ক্ষমতার নিয়মে।’এ কারণে অন্য দেশের ভূখণ্ড দখলের নিষেধাজ্ঞা–সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নীতি আজ হুমকির মুখে। এমনকি ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের ওপর দাবি তুলেছেন। সম্ভাব্য দখল ঠেকাতে সেখানকার প্রধান রানওয়েগুলোতে মাইন পুঁতে রেখেছিল ডেনিশ কর্তৃপক্ষ। কানাডাকে ৫১তম মার্কিন অঙ্গরাজ্য করার বক্তব্যও কানাডাকে নিজস্ব নিরাপত্তা পরিকল্পনা বদলাতে বাধ্য করেছে।.কিছু পরাশক্তি মনে করে, নিজেদের প্রভাববলয় ভাগ করে নিলে বিশ্বে শান্তি আসবে। কিন্তু র‍্যাকম্যান এই তত্ত্বকে অবাস্তব বলেছেন। এই ধারণা ইউক্রেন, তাইওয়ানের মতো ছোট দেশ এমনকি কানাডার মতো বড় দেশের সার্বভৌমত্ব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে অগ্রাহ্য করে। তা ছাড়া বিশ্বের ৯০ শতাংশ সর্বাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করে তাইওয়ান। দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে চলে যাওয়া ওয়াশিংটন কখনো মেনে নেবে না। একইভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নও পোল্যান্ড বা রোমানিয়াকে আবার মস্কোর প্রভাববলয়ে ছেড়ে দেবে না। .স্নায়ুযুদ্ধের সময় পারমাণবিক যুদ্ধের ভয় সত্ত্বেও সামরিক প্রতিরোধের কৌশল (ডিটারেন্স) সফল হয়েছিল। ১৯৬২ সালের কিউবার ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের মতো মুহূর্তেও ওয়াশিংটন ও মস্কো সরাসরি সংঘাতে জড়ায়নি। দুই পক্ষই জানত, পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ের পরিণতি ধ্বংসাত্মক হবে। কিন্তু আজ সেই সামরিক প্রতিরোধের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প নিয়মিত ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করছেন। ফলে বাল্টিক দেশ, পোল্যান্ড, জাপান কিংবা যুক্তরাজ্য আক্রান্ত হলে ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত পাশে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।.ইতিহাস বলছে, বিশ্বযুদ্ধের চূড়ান্ত বিপদ সৃষ্টি হয় নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভুল হিসাব থেকে। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাজ্য বেলজিয়ামের নিরপেক্ষতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু জার্মান সরকার ভেবেছিল, ১৮৩৯ সালের সেই চুক্তি নিছক ‘এক টুকরা কাগজ’। এর জন্য লন্ডন যুদ্ধে জড়াবে না। সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছিল। একইভাবে ১৯৩৯ সালে হিটলার ভেবেছিলেন, পোল্যান্ডের পক্ষে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স অতীতে অন্যান্য সংকটের মতো এবারও পিছু হটবে। কিন্তু হিটলারের সেই ভুল ধারণার পরই দুই দেশ জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।.আমরা যুদ্ধে নেই, তবে শান্তিতেও নেই।জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস.বর্তমানে আন্তর্জাতিক কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ন্যাটোর ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে সেটিকে সবার ওপর হামলা হিসেবে দেখা হয়। তবে কোন দেশ কী ধরনের সহায়তা দেবে, তা তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। সেখানে সরাসরি সেনা পাঠানোর আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট দ্বীপটির সুরক্ষায় অস্ত্র বিক্রির নিশ্চয়তা দিলেও সেনা পাঠানোর বাধ্যবাধকতা দেয় না। এই অস্পষ্টতা বড় বিপদের কারণ। বেইজিং কিংবা মস্কো যদি ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতিকে শুধু কাগুজে অঙ্গীকার মনে করে, তবে সেই ভুল হিসাব হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্ফুলিঙ্গ। কোনো পরাশক্তি হয়তো বিশ্বযুদ্ধ চায় না। কিন্তু প্রতিপক্ষের মনোভাব নিয়ে একটি ভুল ধারণা এমন সংঘাত শুরু করতে পারে, যা কারও নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।(সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস)

মাঠের লড়াইয়ের সামগ্রিক চিত্রে দেখা গেছে, শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছিল। উইকেটের চরিত্র এবং কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যাটার ও বোলার উভয়কেই বেশ কৌশলী ভূমিকা পালন করতে হয়েছে। বলের গতিবিধি ও লেন্থ বজায় রেখে বোলাররা যেমন চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালান, তেমনি ব্যাটাররাও ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দলের রানের চাকা সচল রাখেন। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে দলের প্রধান খেলোয়াড়দের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও নিখুঁত শট নির্বাচন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের অনুকূলে রাখতে বড় অবদান রাখে।

দলের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, পূর্ববর্তী ম্যাচগুলোর অভিজ্ঞতা ও ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা মাঠের খেলায় দারুণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতা পর্যালোচনা করে টিম ম্যানেজমেন্ট যে গেমপ্ল্যান তৈরি করেছিল, খেলোয়াড়রা মাঠে সুশৃঙ্খলভাবে তা কার্যকর করেছেন। কঠিন চাপের মুখে ধৈর্য না হারিয়ে শান্ত মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতাই দলটিকে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিতে প্রধান ভূমিকা রাখে। সমর্থকদের প্রাণবন্ত সমর্থনও মাঠের লড়াইয়ে বাড়তি উৎসাহ জুগিয়েছে।

টুর্নামেন্ট বা সিরিজের সমীকরণের দিক থেকে এই খেলার ফলাফল ও অর্জন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মুখোমুখি লড়াইয়ের অতীত রেকর্ডে এই পারফরম্যান্স নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং দলীয় আত্মবিশ্বাস বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সামনে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় খেলোয়াড়দের এই ইতিবাচক ছন্দ ও মানসিক সংহতি ধরে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। ধারাবাহিক পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে পারলে সামনের দিনগুলোতে দল আরও বড় সাফল্যের দেখা পাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এই সংবাদটির মূল তথ্য ও বিবরণ প্রথম আলো থেকে সংগৃহীত। 24TV.Live এর এআই নিউজ এডিটর সম্পাদকীয় নীতি ও মানদণ্ড বজায় রেখে এটি পুনর্লিখন করেছে।

মন্তব্য (০)

আপনার মতামত লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!

আরও পড়তে পারেন

বেটা ঘোষণা: এটি 24TV.Live এর বেটা সংস্করণ। আপনার মতামত জানান।
মতামত দিন