রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ / রাত ৩:৪৮ঢাকা, বাংলাদেশ যোগাযোগ ↗
এইমাত্র
খেলাধুলা

বিরল পাখি ভুজঙ্গের নাম সাপের নামে কেন

বিরল পাখি ভুজঙ্গের নাম সাপের নামে কেন
বিরল পাখি ভুজঙ্গের নাম সাপের নামে কেন

অক্টোবরের মাঝামাঝি এক সকালে কুয়াকাটা সৈকতের গাঘেঁষা ঝাউবনে ঢুকলেন একদল পাখিপ্রেমী। গাছগুলো সরু আর উঁচু, দেখলে বিদেশি বনের কথা মনে পড়ে। কাঠঠোকরার ঠকঠক আর হাঁড়িচাঁচার চিৎকারের মধ্যে একটা ফিঙে হঠাৎ তেড়ে গেল বনমালির দিকে। তার পর থেকে ডালপালায় ফিঙের আনাগোনা বেড়ে গেল, ব...

অক্টোবরের মাঝামাঝি এক সকালে কুয়াকাটা সৈকতের গাঘেঁষা ঝাউবনে ঢুকলেন একদল পাখিপ্রেমী। গাছগুলো সরু আর উঁচু, দেখলে বিদেশি বনের কথা মনে পড়ে। কাঠঠোকরার ঠকঠক আর হাঁড়িচাঁচার চিৎকারের মধ্যে একটা ফিঙে হঠাৎ তেড়ে গেল বনমালির দিকে।

তার পর থেকে ডালপালায় ফিঙের আনাগোনা বেড়ে গেল, বেশির ভাগই অল্পবয়সী। এদের ভিড় থেকে একটা পাখি এসে বসল লতার ওপর। গা কালো, বুক-পেটে সাদা ফোঁটা, ঠোঁট খাটো আর শক্তপোক্ত, মাথা আর লেজের গড়নও যেন ফিঙের মতো নয়।

দুজন একসঙ্গে ক্যামেরা তুললেন। তিনটা ছবি তুলতেই পাখিটা উড়ে গেল। ওই দুজনের একজন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখিবিশেষজ্ঞ আ ন ম আমিনুর রহমান, যিনি এই পাখিকে খুঁজছিলেন দুই যুগ ধরে।

বাংলাদেশে একে দেখার রেকর্ড ১০ বারও নেই। ডুলাহাজারা, ইনানী, কাপ্তাই, হাজারিখিল, লাউয়াছড়া, করমজল আর কুয়াকাটা, এই ক-টা জায়গার নামই খাতায় ওঠা আছে। আটজনের দলটা রাতের বাসে রওনা হয়েছিল, কিন্তু বাস ছাড়তে দেরি হওয়ায় সকালের সেরা সময়টা আগেই গেল।

প্রথম দিন পাঁচ ঘণ্টা খুঁজে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। দেখা মিলল পরদিন, ঝাউবনে। শব্দটা বাংলায় অনেক পুরোনো।

শিবকে বলা হয় ভুজঙ্গভূষণ; কারণ, সাপ তাঁর অলংকার। কবিতায় একটা ছন্দের নামও ভুজঙ্গপ্রয়াত, যার আক্ষরিক অর্থ সাপের চলন। সংস্কৃত মূল ধরলে দাঁড়ায়, যে বাঁকা পথে চলে।

অথচ পাখিটার গায়ে সাপের ছাপ খুঁজতে গেলে হতাশ হতে হয়। লম্বায় ২৭ থেকে ৩২ সেন্টিমিটার, ওজন ৪৪ থেকে ৬৮ গ্রাম, পালক চকচকে কালো, চোখ গাঢ় বাদামি। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম।

অল্পবয়সী পাখির পিঠ ফ্যাকাশে কালচে-বাদামি, গলা আর বুকে সাদা তিল। .পাখি তো আকাশেই সুন্দর.ফিঙে তোমার চেনা পাখি। কুচকুচে কালো গা আর লম্বা চেরা লেজের এই পাখির বুকের পাটাও কম নয়, নিজের চেয়ে বড় পাখিকে তেড়ে যেতে ভয় পায় না।

ভুজঙ্গ এই ফিঙের গোত্রেরই, ভালো করে না দেখলে দুটোকে আলাদা করা যায় না বললেই চলে। বাংলাদেশে একে কাকঠুঁটো ফিঙেও বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গে কাকচঞ্চু ফিঙে, ইংরেজিতে ক্রো-বিল্ড ড্রোঙ্গো। ঠোঁটটা কাকের মতো শক্তপোক্ত বলে এই নামগুলোর যুক্তি সহজেই বোঝা যায়।

ভুজঙ্গের বেলায় তেমন কিছু চোখে পড়ে না। সাপের নামে পরিচিত পাখি অবশ্য আরও আছে। গয়ার, ইংরেজিতে যাকে ডার্টার বা স্নেকবার্ড বলে।

মাছ ধরার সময় সে পুরো শরীর পানিতে ডুবিয়ে রাখে, ভেসে থাকে কেবল লম্বা সরু গলাটা, আর দূর থেকে সেটাকে সাঁতার কাটা সাপ বলেই মনে হয়। গলার ৮ আর ৯ নম্বর কশেরুকার কাছে একটা বাঁক আছে। ওই বাঁকের জোরে গলাটা তিরের মতো ছুটে গিয়ে মাছ গেঁথে ফেলে।

পালক পুরোপুরি জলরোধী নয় বলে শিকারের পর ডানা মেলে রোদে শুকাতেও দেখা যায় তাকে। এখানে নামের কারণ চোখের সামনেই পড়ে আছে। ভুজঙ্গের কারণটা কোথাও লেখা নেই।

যে পাখি দশবারও দেখা দেয় না, তার নামের ইতিহাস কেউ ঘটা করে লিখে রাখবেন, এমন আশা কমই। নামটা কে দিয়েছেন, কবে দিয়েছেন, কোনো বই বা প্রতিবেদনে তার হদিস মেলে না। অনুমান করা যায় মাত্র।

ফিঙের চেরা লেজ দেখে সাপের দু-ভাগ জিভের কথা মনে আসতে পারে, কিন্তু এই পাখির লেজ তুলনায় চওড়া, আগাটা বাইরের দিকে সামান্য ছড়ানো, চেরা প্রায় নেই। খাবারের দিকে তাকালে দেখা যায়, পোকামাকড়ের সঙ্গে সে ব্যাঙ, সরীসৃপ আর ছোট পাখিও খায়। শিকারি স্বভাবের প্রাণীকে ভয়ের নাম দেওয়া আশ্চর্য কিছু নয়।

.হাতি কিংবা ড্রিল মেশিনের চেয়েও জোরে শব্দ করতে পারে যে পাখি.স্বভাবের কথাও আছে। পাখিটা থাকে বনের নিচের দিকে, ঝোপঝাড় আর লতাগুল্মের ভেতর, একা কিংবা জোড়ায়, আর মিশে থাকে ফিঙের দলে। অনেকের মতে এ দেশে সে পন্থ-পরিযায়ী, মানে অন্য কোথাও যাওয়ার পথে অক্টোবরে অল্প কয়েক দিনের জন্য থামে।

কেউ কেউ বলেন ভবঘুরে, পথ হারিয়ে এসে পড়া অতিথি। ঘন পাতার আড়ালে একটা কালো শরীর মিলিয়ে যাচ্ছে, এই দৃশ্য কারও সাপের কথা মনে করালে অবাক হওয়ার কিছু নেই। প্রমাণ অবশ্য কোনোটারই নেই।

এ দেশে পাখিটা নিয়ে তথ্য এতই কম যে একে ‘তথ্য অপ্রতুল’ পাখি বলা হয়। যেটুকু জানা আছে, তা মূলত প্রজনন নিয়ে। এপ্রিল থেকে জুন প্রজননকাল, তখন সে থাকে হিমালয় আর উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি বনে।

মাটি থেকে ৪-১২ মিটার ওপরে গাছের দোডালায় মাকড়সার জালের সঙ্গে বাকল আর ঘাস জড়িয়ে বাটির মতো চ্যাপটা বাসা বানায়। স্ত্রী-পুরুষ মিলে বাসা গড়ে, কিন্তু তিন-চারটা ফিকে গোলাপি ডিমে তা দেয় একা স্ত্রী পাখি। ছানা ফুটতে ১৪-১৫ দিন লাগে বলে অনেকের ধারণা, উড়তে শিখতে আরও ১৫ থেকে ২২ দিন।

ডাকে দুই রকম সুর পাওয়া যায়, মিষ্টি ‘ফুউইইইট্...ফুউইইইট্...’ আর কর্কশ ‘কোয়্যারশকোয়্যারশ’। নভেম্বরের শুরুতেও মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে এ রকম দুটো পাখিকে দেখা যাচ্ছিল। এখনো আছে কি না, বলা মুশকিল।

লেজটা দেখে এদের চেনা যায়। লেজটা চেরা নয়, আগাটা শুধু বাইরের দিকে ছড়ানো। যদি এরা থাকে, ফিঙের দলের সঙ্গেই থাকতে পারে।

সূত্র: বার্ড ফোরাম, বার্ডা.এই পাখি মাটিতে না নেমে টানা ১০ মাস উড়তে পারে।

সূত্র: প্রথম আলো

মতামত (০)

এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।

আরও পড়ুন

24TV.Live ব্যানার
খেলাধুলা

ভালো ব্যাটসম্যানরা কি অন্ধকারেও দেখতে পান

সব বল খেলার দরকার নেই। কিন্তু সব বলেই ব্যাটসম্যানের বিচার-বিবেচনাটা লাগে। খেলবেন কি খেলবেন না। খেললেও কীভাবে? আর এই খেলা কিংবা কীভ...

24TV.Live ব্যানার
খেলাধুলা

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে স্বাস্থ্যসেবায় ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ) আয়োজিত টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় ও দর্শকদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে ইউনাইটেড মেডিকেল ক...

24TV.Live ব্যানার
খেলাধুলা

সিলেটে হৃদয়ের রেকর্ডময় দিন

একটি ইনিংস, ২৪২ রান। আর তাতেই বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের পরিসংখ্যানের বইয়ে নতুন করে লিখতে হলো অনেকগুলো পাতা। সিলেটের উইকেটে তাওহীদ...

24TV.Live ব্যানার
খেলাধুলা

পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা বহাল, মোলিনাকে ছাড়

বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর মাঠের বাইরের সংঘাতের রেশ এখনো কাটেনি আর্জেন্টিনার। স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের পরের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় লি...

বিজ্ঞপ্তি

এটি 24TV.Live এর বেটা সংস্করণ। আপনার মতামত জানান।

মতামত দিন ↗
অ্যাপ ডাউনলোড Android Android TV