টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় লাশ পাওয়ার খবর ‘গুজব’

কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালীর গহীন পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় তিনজনের লাশ পড়ে থাকার গুজব ছড়িয়ে পড়লেও বাস্তবে তার কোনো সত্যতা মেলেনি। গুজবের ওই লাশ ও মানবপাচারকারীদের নতুন আস্তানার সন্ধানে পাহাড়ে যৌথ অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী, বর্ডার...
কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালীর গহীন পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় তিনজনের লাশ পড়ে থাকার গুজব ছড়িয়ে পড়লেও বাস্তবে তার কোনো সত্যতা মেলেনি। গুজবের ওই লাশ ও মানবপাচারকারীদের নতুন আস্তানার সন্ধানে পাহাড়ে যৌথ অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), এসআরবি ও পুলিশ। শনিবার ছয়টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লক সংলগ্ন পাহাড়ে এই অভিযান চালানো হয়।
হ্নীলা রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মাহবুবের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সেনাবাহিনী, বিজিবির ৬৪ ব্যাটালিয়ন, এসআরবি-১৫ এর সদস্য, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। অভিযান চলাকালে যৌথবাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২৪ এর আইওএম (IOM) হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নেন। পাশাপাশি ড্রোনের সাহায্যে পাহাড়ি এলাকায় নিবিড় তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হয়।
অন্যদিকে, একই দিন নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পশ্চিম পাশে সেনাবাহিনী, এপিবিএন ও এসআরবির সমন্বয়ে ৩৫ সদস্যের আরেকটি দল সমান্তরাল অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানেও ডাকাত দলের কোনো সন্দেহভাজন সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে মানবপাচারকারীদের ব্যবহৃত আস্তানা থেকে ছয় রাউন্ড গুলি, গুলির খালি খোসা, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং রান্নাবান্নার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, শনিবার সকালে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পসংলগ্ন পশ্চিম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানার সন্ধানে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি এবং কাউকে আটক করাও সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, আপাতত আজকের মতো অভিযান শেষ করা হলেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও এমন অভিযান পরিচালনা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ নভেম্বর বিকেলে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত হন। ওই ঘটনায় যৌথবাহিনী ৫৬ জন রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি জিম্মিকে উদ্ধার করে। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গুলিও উদ্ধার করা হয়েছিল। আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় লাশ পাওয়ার খবর ‘গুজব’—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আমার দেশ ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, জাতীয় অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।






মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।