জিয়াউর রহমানের ‘ম্রো কমপ্লেক্স’-এর স্মৃতি ছুঁয়ে চিম্বুকে সংহতি ও পরিচ্ছন্নতার মহোৎসব

বান্দরবানের চিম্বুক রেঞ্জে পর্যটন বিকাশ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও ঐতিহাসিক মেলবন্ধনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কের দীর্ঘ ২৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পরিচালিত হয়েছে দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। শনিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মযজ্ঞে স্থান...
বান্দরবানের চিম্বুক রেঞ্জে পর্যটন বিকাশ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও ঐতিহাসিক মেলবন্ধনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কের দীর্ঘ ২৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পরিচালিত হয়েছে দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান। শনিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মযজ্ঞে স্থানীয় ম্রো সম্প্রদায়ের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে পাহাড়ি সড়কে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করেন।
দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে এবং ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ম্রো অধ্যুষিত চিম্বুক রেঞ্জে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এতে সরাসরি মাঠে নেমে নেতৃত্ব দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী। কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী ম্রো জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও পাহাড়ে স্থিতিশীলতা আনয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক অবদানের কথা গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও সুরক্ষায় এ অঞ্চলে ‘ম্রো কমপ্লেক্স’ গড়ে তুলেছিলেন। সেই উন্নয়ন, সম্প্রীতি ও সংহতির ধারাবাহিকতায় আজও পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ একতাবদ্ধ। ম্রো জনগোষ্ঠীর এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, দেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় তারা কতটা নিবেদিত।
মন্ত্রী আরও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, পর্যটকদের কাছে বান্দরবানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত এই ২৭ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশ সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে, যা চিম্বুক রেঞ্জকে বিশ্বমানের একটি নান্দনিক রূপ দেবে। স্থানীয় ম্রো নেতৃবৃন্দ ও আয়োজকেরা জানান, বান্দরবানের প্রাণপ্রকৃতি রক্ষা এবং চিম্বুককে একটি পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। পর্যটনের প্রসার ঘটলে একদিকে যেমন দুর্গম পাহাড়ে বসবাসরত ম্রো জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সমতলের পর্যটকদের সঙ্গে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে।
উদ্বোধনী কর্মসূচিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
জিয়াউর রহমানের ‘ম্রো কমপ্লেক্স’-এর স্মৃতি ছুঁয়ে চিম্বুকে সংহতি ও পরিচ্ছন্নতার মহোৎসব—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আমার দেশ ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, জাতীয় অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।






মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।