নেতানিয়াহু নন, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নন, বরং এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।আইজেনকট ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান এবং ইয়াশার পার্টির নেতা। নির্বাচন পরবর্তী চলমান রাজন...
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নন, বরং এবারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। আইজেনকট ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান এবং ইয়াশার পার্টির নেতা। নির্বাচন পরবর্তী চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট হারজগ তাঁকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট হারজগের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় গাদি আইজেনকটকে প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। রোববার (আজ) আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেবেন প্রেসিডেন্ট। .ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন নেতানিয়াহু ও মোসাদপ্রধান.গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এরপর কে নতুন সরকার গঠনের সুযোগ পাবেন, তা নির্ধারণ করতে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন হারজগ। নেতানিয়াহুও জোট সরকার গঠনের তৎপরতা চালিয়ে যান।
সরকার গড়তে ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টির পক্ষে আছেন ৬৭ জন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোটের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা।
আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো আইজেনকটের পক্ষে আছে। এখন নিয়ম অনুযায়ী, সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজন হলে এ সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানো হবে।
.এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দল নিজেদের নীতিগত দাবি আদায় বা মন্ত্রীর পদ পাওয়া নিয়ে আলোচনা ও দর–কষাকষি করবে। (প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনীত প্রার্থী) আইজেনকট সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করার চেষ্টা করবেন। এক্ষেত্রে আইজেনকট ব্যর্থ হতে পারেন।
সে ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট নেসেটের অন্য আরেকজন সদস্যকে নতুন করে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। তিনিও নিয়ম মেনে ২৮ দিন সময় পাবেন। নতুন মনোনীয়ত এ প্রার্থীও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় কোনো প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করতে পারবেন।
ওই ব্যক্তিকে সরকার গড়তে ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে। এরপরও যদি অচলাবস্থা বজায় থাকে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নেসেট ভেঙে দেওয়া হবে। ইসরায়েলে নতুন করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
.ইসরায়েলে সরকার গড়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কেউ, এখন কী হবে, প্রধানমন্ত্রী কে হবেন.৯০ দিনের মধ্যে এ নির্বাচন হতে হবে। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশ চালাবে। নিয়ম অনুযায়ী, নেতানিয়াহুই হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান।
নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ৬১টি আসনে জয় পেতে হয়। ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে আইজেনকটের চার দলের জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে।
অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। আর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসনে জয় পেয়েছে। .নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেবে না জোটসঙ্গী দল ইউটিজে, আরও বেকায়দায় তিনি.যদিও আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করবেন না বলে আগেই জানিয়েছেন আইজেনকট।
এরপরও আরবদের সমর্থন নিশ্চিত হলে তাঁর জোটের আসন দাঁড়াবে ৬৭টিতে। লিকুদ পার্টির নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রায় ১৯ বছর ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। গত তিন দশকে নানা রাজনৈতিক সংকট সামলে ক্ষমতার কেন্দ্রে টিকে আছেন তিনি।
.নেতানিয়াহুকে কি যেতেই হচ্ছে, আরব দলগুলোর সমর্থনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আইজেনকট।
নেতানিয়াহু নন, ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম আলো ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, জাতীয় অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।






মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।