জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: হানিফের মৃত্যুদণ্ডের রায় ট্রাইব্যুনালে
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে নিরস্ত্র মানুষের ওপর সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর রায় ঘোষণা
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই মামলার চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। শুনানিতে সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
কুষ্টিয়ার তিন নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ
রায়ে মামলার অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতরা হলেন—কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান। একই সঙ্গে আদালত চার দণ্ডিতের স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
“আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এটি একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ন্যায়ভিত্তিক রায়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অকুতোভয় শহীদদের রক্তের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা এই রায়কে সর্বান্তঃকরণে স্বাগত জানিয়েছি।” — মো. আমিনুল ইসলাম, চিফ প্রসিকিউটর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া ও আইনি পর্যবেক্ষণ
রায়ের পর চিফ প্রসিকিউটর সন্তোষ প্রকাশ করলেও আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন চরম হতাশা ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, এই রায়টি তাঁর কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত মনে হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর গণহত্যাকারীদের বিচারপ্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালের এই রায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে থাকবে।


মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।