তেজস্ক্রিয়তা ও কুরি দম্পতির কারিকুরি
মেরি কুরি। প্রথম নারী হিসেবে স্বামী পিয়েরে কুরির সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞানে পেয়েছেন নোবেল পুরস্কার। তিনি একমাত্র নারী হিসেবে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে নোবেল জিতেছেন। আজ তাঁর জন্মদিনে সেই গল্পটাই জানা যাক...
আধুনিক জার্মানি আর চেক রিপাবলিকের সীমান্ত এলাকা। ১৬ শতকের শুরুতে এই অঞ্চলকে দুই ভাগে বিভক্ত করে মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল রুক্ষ এক পর্বতশ্রেণি। এক পাশে স্যাক্সোনি আর আরেক পাশে বোহেমিয়া। পাহাড় ছাড়াও ছিল অভেদ্য এক বন। সেখানে রক্তলোলুপ নেকড়ে, ভালুকদের ছিল অভয়ারণ্য। তাদের চেয়েও আতঙ্কের ব্যাপার, হিংস্র আর ভয়ংকর ডাকাতদের আস্তানাও ছিল সেখানে। শিকারের খোঁজ পেলে অস্ত্র বাগিয়ে বুনো জন্তুর মতোই রে রে করে তেড়ে আসত তারা।
ওই শতকে এ অঞ্চলে আবিষ্কৃত হয় বহু মূল্যবান এক ধাতু রুপা। যার পরিমাণ রাশি রাশি বলে মনে করা হয়েছিল। তার লোভে সব বিপদ তুচ্ছ করে এখানে একসময় নানা প্রান্ত থেকে পায়ে পায়ে হাজির হতে লাগল খনির ব্যবসায়ীরা। সঙ্গে জুটতে লাগল তাদের সাঙ্গপাঙ্গরাও। ইতিহাসে এটিই পরিচিত প্রথম ‘সিলভার রাশ’ নামে।
তাই সীমান্তের একেবারে কাছে ওয়াকিমথাল নামের ছোট্ট একটা শহর কদিনেই ইউরোপের সবচেয়ে বড় খনিকেন্দ্রে পরিণত হলো। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় প্রবল উৎসাহে দলে দলে মানুষ ভিড় জমাতে লাগল এ শহরে। মাত্র কয়েক বছরে শহরটির জনসংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে দাঁড়াল ২০ হাজারে। এই খনি থেকে উত্তোলন করা রুপা দিয়ে কয়েন বানানো হতো, যাকে বলা হতো ওয়াকিমথেলার। লোকমুখে নামটি আস্তে আস্তে পরিণত হয় থেলারে। নামটি বিশ্বজুড়ে সেকালে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এখন সেই রৌপ্যমুদ্রার ব্যবহার না থাকলেও নামটি কিন্তু এখনো রয়েই গেছে, তবে একটু পরিবর্তিত রূপে। এই থেলারকে এখন আমরা বলি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মুদ্রা হিসেবে এখনো ব্যবহৃত হয় নামটি।
স্বাভাবিকভাবেই ওয়াকিমথেলার খনির রুপার পরিমাণ অফুরন্ত ছিল না। খনির সব রুপার মজুত ফুরিয়ে গেল মাত্র তিন দশকে। তার পরপর ভয়ংকর দানবের মতো আচমকা আঘাত হানল প্লেগ নামের মহামারি। বিপুল মানুষ ঢলে পড়ল মৃত্যুর কোলে। এই ক্ষত শুকাতে না–শুকাতেই মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো বেজে উঠল যুদ্ধের দামামা। তাতে এককালের জমজমাটি শহরটিও প্রায় ধ্বংসস্তূপে রূপ নিল। লোকসংখ্যা কমতে কমতে নেমে এল প্রায় শূন্যের কোঠায়। ওয়াকিমথেলার পরিণত হলো ভুতুড়ে এক শহরে। সব জৌলুশ হারিয়ে আবার অস্বাস্থ্যকর এক শহর হিসেবেও বদনাম জুটল শহরটির কপালে। এ ভয়ে সেখানে তখন নিতান্ত প্রয়োজন না হলে কেউ পা-ই মাড়াত না। অস্বাস্থ্যকর শহর হিসেবে কুখ্যাত হওয়ারও কারণ ছিল। শহরটিতে প্লেগের প্রাদুর্ভাবের অনেক আগে থেকে অদ্ভুত আর রহস্যময় এক রোগে প্রায় অসুস্থ হতে দেখা যেত খনিশ্রমিকদের। কিন্তু তার কারণ কেউ জানত না।
রুপা ছাড়াও ওয়াকিমথেলারের খনিগুলোতে আরেকটি খনিজ পাওয়া যেত। চকচকে কালো এক খনিজ। তবে সেগুলো কাউকে সেভাবে আকর্ষণ করতে পারেনি। কারণ, একে সবাই দুর্ভাগ্যের পাথর বলেই জানত। তাই খনিজটির নামও দেওয়া হয়েছিল পিচব্লেন্ড। জার্মান এই শব্দের অর্থ ‘দুর্ভাগ্য বয়ে আনা খনিজ’ (জার্মান পিচ অর্থ দুর্ভাগ্য আর ব্লেন্ড অর্থ খনিজ)।
লোকমুখে খনিজটির কথা শোনেন সেকালের শৌখিন জার্মান রসায়নবিদ মার্টিন ক্লাপরথ। সেটা কী দিয়ে তৈরি, তা জানার কৌতূহল হলো তাঁর। সেটা ১৭৮৯ সালের কথা। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি দেখলেন, পিচব্লেন্ডে অদ্ভুত ধরনের একটা অর্ধধাতু আছে। বইপত্র, জার্নাল ঘেঁটে দেখলেন, এ ধাতুর কথা আগে কেউ বলেনি। অদ্ভুত ব্যাপার! তাই নতুন একটা ধাতু আবিষ্কারের কৃতিত্ব জুটল মার্টিনের কপালে। এর মাত্র ৮ বছর আগেই জ্যোতির্বিদ উইলিয়াম হার্শেল আবিষ্কার করেছেন ইউরেনাস নামের নতুন একটা গ্রহ। গ্রিকদের আকাশের দেবতার নামে নামকরণ করা হয় গ্রহটির। সেকালে ধারণা ছিল, এটিই সৌরজগতের শেষ গ্রহ। ইউরেনাস গ্রহের সম্মানে ধাতুটিকে তিনি নাম দেন ইউরেনিয়াম।
পরের শতকে এই পিচব্লেন্ড খনিজটি আবিষ্কৃত হয় ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া ও রোমানিয়ায়। ভিক্টোরিয়া যুগ শেষ হওয়ার আগে মৌলটির ভূতাত্ত্বিক এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রকাশিত হয় কয়েক হাজার বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ। এতে বোঝা যায়, নতুন মৌলটি বিজ্ঞানীদের কেমন কৌতূহলের বস্তুতে পরিণত হয়েছিল। এর পেছনে কারণও আছে অবশ্য। মৌলটি স্বর্ণের মতো ঘন। একে পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী মৌল বলে মনে ধারণা করেছিলেন সেকালের বিজ্ঞানীরা। মৌলটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণের আরেকটি কারণ হলো, এর অক্সাইড আর লবণে বিচিত্র সব রং পাওয়া যেত। সেগুলো ব্যবহার করা হতো কাচ, সিরামিক ও পোরসেলিনের বিভিন্ন জিনিসপত্র বানাতে। কারণ, এসব অক্সাইড আর লবণ ব্যবহারে সেগুলো কাচে আকর্ষণীয় প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করত, সিরামিক ও পোরসেলিনে কমলা, হলুদ, লাল, সবুজ ও কালো চাকচিক্য তৈরি করা যেত। অবশ্য এর কিছু কৌশল রোমান যুগ থেকেই অনেকের জানা ছিল। কিন্তু সে সময় এই আকর্ষণীয় রংচঙে এই সাজসজ্জার ভেতরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা এক অদৃশ্য বিপদের কথা কেউ ঘুণাক্ষরে চিন্তাও করতে পারেনি।
ইউরেনিয়ামের এত সব আকর্ষণীয় ব্যবহারের মধ্যে হেনরি বেকেরেল আবিষ্কার করেন আরেকটি নাটকীয় সম্ভাবনা। ১৮৯৬ সালে প্রায় দুর্ঘটনাবশত তিনি দেখতে পান, মৌলটি থেকে একটা অদৃশ্য রশ্মি নির্গত হয়। আলোরোধী কালো কাগজ দিয়ে ঢেকে রাখা ফটোগ্রাফিক প্লেটেও ঝাপসা দাগ সৃষ্টি করতে পারে সেই রশ্মি।
এ ঘটনার মাত্র মাস কয়েক আগে আরেকটি অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হন জার্মান পদার্থবিদ উইলিয়াম রন্টজেন। ১৮৯৫ সালে জে জে টমসনের মতো বায়ুশূন্য টিউবে ক্যাথোড রে নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন তিনি। একটা উত্তপ্ত ধাতব ক্যাথোড থেকে বায়ুশূন্য টিউবের ভেতর ইলেকট্রনের স্রোত পাঠাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ খেয়াল করলেন, অন্য প্রান্তে রাখা একটা প্রতিপ্রভা ফসফর জাতীয় পর্দা এই রশ্মিতে দীপ্তিময় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। আবার আরেকটি রহস্যময় রশ্মিও পাওয়া গেল এর মাধ্যমে। এবার বায়ুশূন্য টিউব থেকে রশ্মিটি বেরিয়ে ঘরের অন্য প্রান্তে চলে যেতে দেখলেন তিনি। টিউব আর পর্দার মাঝখানে একটা মোটা কালো কার্ড বসিয়ে দেওয়ার পরও পর্দাটি দীপ্তিময় হতে দেখা গেল। শেষ পর্যন্ত তিনি টিউবের সামনে তাঁর নিজের হাত রেখে পরীক্ষা করলেন। পরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে নিজের হাতের কঙ্কাল দেখে তাঁর চোখ কপালে উঠল। তাঁর জানা ছিল না, বায়ুশূন্য টিউব থেকে ইলেকট্রনগুলো এতই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে তারা টিউবের কাচের পরমাণুতে আঘাত হানতেই ভিন্ন ধরনের বিকিরণের সৃষ্টি করেছিল।
শুরুতে রহস্যময়, ভুতুড়ে মনে হলেও এক সপ্তাহ পর রন্টজেন আবিষ্কার করলেন, ওই রশ্মির কিছু কাজেও লাগানো যায়। এটি ব্যবহার করে তিনি ফটোগ্রাফিক প্লেটে তাঁর স্ত্রীর হাতের কঙ্কালের ছবি তুললেন। তাঁর হাতের কঙ্কালগুলোর ঘন ছায়া দেখা গেল সেখানে। এমনকি তাঁর হাতে থাকা বিয়ের আংটির ছবিও পাওয়া গেল সেখানে। রন্টজেন এই ভুতুড়ে ছবি দেখে খুশি হলেও তাঁর স্ত্রী রীতিমতো ঘাবড়ে গেলেন। অবশ্য প্রাথমিক ভুতুড়ে ভাবটা কাটিয়ে উঠে এই আবিষ্কারের গুরুত্ব বেশ দ্রুতই অনুধাবন করতে পেরেছিল সেকালের চিকিৎসক সমাজ। কারণ, এর মাধ্যমে রোগীর ভাঙা হাড়ের অবস্থা বেশ ভালোমতো বোঝা যেত, কিংবা ঠিক কোথায় সার্জারি করতে হবে, তা–ও বুঝতে সুবিধা হতো চিকিৎসকদের। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই রশ্মি আসলে কী? কোনো অদৃশ্য আলো কি? শুরুতে এর উত্তর জানত না কেউই। সবার কাছে অজানা বলেই এর নাম দেওয়া হলো এক্স-রে বা এক্স-রশ্মি। আবার কেউ কেউ বিজ্ঞানী রন্টজেনের নামে একে রন্টজেন রশ্মি নামেও ডাকতে লাগল।
হেনরি বেকেরেলের আবিষ্কৃত ইউরেনিয়াম রশ্মিতেও এক্স-রের মতো কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল। বেকেরেল দেখতে পান, বিশেষ কিছু খনিজ পদার্থ থেকে বেরিয়ে আসা অদৃশ্য রশ্মি কালো কাগজ ভেদ করে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম ধাতুর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ নির্গত হতে দেখেন তিনি। তাঁর নামানুসারে পরে এই বিকিরণের নাম দেওয়া হয় বেকেরেল রশ্মি। ফরাসি বিজ্ঞানী পিয়েরে কুরি এবং তাঁর স্ত্রী মেরি কুরি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে দেখেন, শুধু কিছু নির্দিষ্ট পদার্থই এ রকম শক্তি বিকিরণ করতে পারে। সক্রিয় রশ্মির এই ঘটনাকে বোঝাতে তাঁরা ফরাসি রেডিও-অ্যাকটিফ (Radio-actif) শব্দটি ব্যবহার করেন। এখান থেকে পরে ইংরেজিতে Radioactive শব্দটির উৎপত্তি। এসব পদার্থের শক্তি বিকিরণের ধর্ম বোঝাতে তাঁরা প্রথম রেডিওঅ্যাক্টিভিটি (Radioactivity) শব্দটি ব্যবহার করেন, বাংলায় যার অনুবাদ করা হয়েছে তেজস্ক্রিয়তা। তেজস (অর্থ তেজ বা বিকিরণ) ও ক্রিয়া (কাজ) শব্দ দুটি একত্র হয়ে তেজস্ক্রিয় শব্দটি গঠিত হয়েছে। তবে পরমাণুর গঠন সঠিকভাবে আবিষ্কারের আগে রেডিওঅ্যাক্টিভিটি বা তেজস্ক্রিয়তার কারণটা বোঝা যায়নি। তাই এ বিষয়ে আরও গবেষণার কথা ভাবলেন কুরি দম্পতি। কিন্তু সে জন্য দরকার উন্নত মানের গবেষণাগার। সেটা পাবেন কোথায়?
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে একটা গবেষণাগারের ব্যবস্থা করতে পারলেন তাঁরা। ১৮৯৮ সালে প্যারিসের স্কুল আব ফিজিকস অ্যান্ড কেমিস্ট্রি কর্তৃপক্ষ তাদের গবেষণাগার ব্যবহারের অনুমতি দেয় কুরি দম্পতিকে। সেটা ছিল আসলে নামমাত্রই গবেষণাগার। আধুনিক গবেষণাগারের সঙ্গে তুলনা করলে সেটাকে বলা চলে স্রেফ গোয়ালঘর। কিংবা আস্তাবলও বলা চলে। ঘরের মেঝে আর ছাদটা ছিল ভাঙাচোরা, বৃষ্টি হলেই পানিতে ভেসে যেত ঘরটি। আর গ্রীষ্মে প্রচণ্ড গরমে সেই ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়ত। আর শীতকালের কথা কী বলব! ভাঙাচোরা ঘরটির এখান-ওখানের চোরাগোপ্তা ফাঁকফোকর দিয়ে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ত কনকনে বাতাস। তীব্র ঠান্ডায় জমে যাওয়ার মতো অবস্থা হতো ঘরের বাসিন্দাদের। আবার গ্যাস বার্নার আর রাসায়নিকের উৎকট গন্ধে পরিস্থিতি হয়ে উঠত আরও ভয়াবহ।
জার্মান রসায়নবিদ উইলহেম ওস্টওয়াল একবার কুরি দম্পতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন প্যারিসের সেই গবেষণাগারে। তাঁর ভাষায়, গবেষণাগারটাকে আস্তাবল আর আলুর গুদামের সংমিশ্রণ ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি। রাসায়নিক যন্ত্রপাতি আর কাজের জন্য একটা টেবিল চোখে পড়ার আগপর্যন্ত সেখানে যে কোনো গবেষণাকর্ম চলতে পারে, তা ভাবতেও পারেননি তিনি। অথচ সেই গবেষণাগারে রাত–দিন অমানুষিক পরিশ্রম করে পিচব্লেন্ড থেকে ইউরেনিয়াম আলাদা করতে শুরু করেন তাঁরা।
দিনের পর দিন রুটিন মেনে কাজ করে যেতে থাকেন কুরি দম্পতি। পরিত্যক্ত ওয়াকিমথাল খনির আশপাশে গাদা করা পিচব্লেন্ড গবেষণাগারে আনা হতো বস্তায় ভরে। কাজের শুরুতেই তা থেকে কাদা, ঘাস আর পাইনের পাতা পরিষ্কার করতেন মেরি। সেগুলো ভেঙে ভেঙে পাউডারের মতো মিহি ধুলায় পরিণত করা হতো। সেগুলো এরপর একটা তরলে উত্তপ্ত করে ছেঁকে আরও পরিশুদ্ধ করা হতো। পরে সেগুলো থেকে অদরকারি বস্তুগুলো বাদ দিতে ধোয়া হতো অ্যাসিডে। এরপর চলত ইলেকট্রোলাইসিস বা তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া। এভাবে কয়েক মাসের টানা পরিশ্রমে যেটুকু বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম পাওয়া যেত, তা যেন তালকে তিল করার মতো। মাত্র কয়েক গ্রাম ইউরেনিয়াম। ‘উত্তপ্ত তরলে আমার নিজের দেহের সমান লোহার রডের চামচ দিয়ে নাড়াচাড়া করতাম। মাঝেমধ্যে এ কাজ করতে সারা দিন লেগে যেত। দিন শেষে আমার শরীর ভেঙে আসত।’—সে সময়ের স্মৃতিচারণা করে লিখেছেন মেরি। অবশ্য এ নিয়েও তাঁর কোনো অভিযোগ ছিল না। কারণ, বৈজ্ঞানিক এই গবেষণায় তাঁর সঙ্গে তখন ছায়ার মতো থাকতেন তাঁর স্বামী পিয়েরে। মেরি লিখেছেন, ‘সেই দুর্বিষহ পুরোনো কুঁড়েঘরে আমাদের যৌথ জীবনের সবচেয়ে ভালো এবং সুখী বছরগুলো কাটিয়েছি আমরা।’ অচিরেই তাঁদের আমানবিক পরিশ্রমের ফলও মিলল হাতেনাতে।


মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।