যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেস দখলের পর ডেমোক্র্যাটরা কী করতে পারবে ও কী পারবে না?
নির্বাচনের রাতটা ডেমোক্র্যাটদের জন্য এক স্বপ্নের মতো ছিল, যার বাস্তবতা জানুয়ারিতে এসে ধরা দেবে।
মঙ্গলবার রাতে তাদের উল্লসিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। কেননা এক বিরাট বিজয়ের পর নতুন বছরের শুরু থেকে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেবে ডেমোক্র্যাটরা।
"আজ থেকে আমেরিকার মহান প্রত্যাবর্তন শুরু হলো," উচ্ছ্বসিত হাউজ ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস ঘোষণা করেন।
মাসব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণার সময় নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর- যেমন দুর্নীতির তদন্ত করা, স্বাস্থ্যসেবা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও পেট্রোলের খরচ কমানো এবং ইরান যুদ্ধ সীমিত করা, তারা এখন পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবায়নের পথে আরও কঠিন পথচলা শুরু করবে।
ওয়াশিংটনে ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তন মানে এই নয় যে ডেমোক্র্যাটরা এখনই তাদের পরিকল্পনায় থাকা আইন প্রণয়নের বিষয়গুলোর বাস্তবায়ন শুরু করতে পারবে।
কারণ, তাদের হাতে কংগ্রেস থাকলেও, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এখনো আইন প্রত্যাখ্যান করার ক্ষমতা রয়েছে।
যা ঘটেছে তাকে ডেমোক্র্যাটদের 'জনগণের ম্যান্ডেট' হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়, বিবিসিকে এমনটাই বলেছেন মার্কিন সেনেটর ক্রিস কুনস। তিনি সতর্ক করে বলেন, দলটি এখনো 'গভীরভাবে অজনপ্রিয়'।
"আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে আমরা কাজ করতে পারি, মূলত তাদের উদ্বেগ ও প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি, বিশেষ করে কম মজুরি এবং বাড়তে থাকা খরচ নিয়ে।"
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ক্যালিফোর্নিয়ার কংগ্রেসম্যান রবার্ট গার্সিয়া শিগগিরই প্রতিনিধি পরিষদের একটি শক্তিশালী তদারকি কমিটির নেতৃত্ব দেবেন, যা ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরকে বেশ কঠিন করে তোলার ক্ষমতা রাখবে।
নির্বাচনের রাতে জয়সূচক ফলাফল আসতে শুরু করার পর এক বিবৃতিতে এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী বলেন, "আইনজীবীর সাহায্য নিন"।
মার্কিন সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, উভয় কক্ষেই কমিটিগুলোর তদন্ত করার ক্ষমতা আছে, যা ব্যবহার করে তারা প্রেসিডেন্ট এবং তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ওঠা কথিত স্বার্থের সংঘাত এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে পারে।
মঙ্গলবার, সম্ভাব্য লক্ষ্যগুলোর একটি তালিকা দেন গার্সিয়া। ট্রাম্পের পরিবার, কর্পোরেট দুর্নীতি, ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের বিরুদ্ধে ওঠা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এবং এপস্টিন ফাইলগুলো নিয়ে সরকারের কার্যকলাপ।
প্রেসিডেন্টের মন্ত্রিসভা ও বিচার বিভাগীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করা বা আটকে দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে সেনেটের।


মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।