বৃহৎ শিল্পের জন্য ল্যান্ড-ব্যাংক বানাতে চান শুভেন্দু, কিন্তু বাধা কোথায়?
বৃহস্পতিবার পাঁচই নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিল্পায়নে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি জমি নীতি নিয়েও একাধিক সংস্কারের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্প ও জমি - এই দুই ক্ষেত্রের বিভিন্ন ঘটনা অতীতে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন ও পতনের পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হয়।
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি ও এই দুই ক্ষেত্রে বিগত সরকারের উপর ব্যর্থতার অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের যুবসমাজের এক বৃহৎ অংশকে বিজেপির দিকে ঝুঁকতে উৎসাহ দিয়েছিল বলে মনে করা হয়।
নতুন শিল্পনীতি আনার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার চাইছে, কথিত 'জমি-জট'-এর কারণে পশ্চিমবঙ্গে যে সব শিল্প ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার নজির রয়েছে, তা সংশোধন করতে।
শিল্প ও শিল্পক্ষেত্রের জমি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চাপানউতর কম হয়নি।
সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে বাম আমলের জমি অধিগ্রহণ নীতির বিরুদ্ধে মমতা ব্যানার্জির আন্দোলন তাকে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনে সাহায্য করেছিল বলে মনে করা হয়।
অন্যদিকে নির্বাচনের আগে উন্নয়নমূলক কাজে বাধা সৃষ্টির জন্য মমতা ব্যানার্জীর সরকারের জমি নীতির সমালোচনা করে বিজেপি অভিযোগ করত যে, ত্রুটিপূর্ণ জমিনীতির জন্যই পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন ও শিল্প গঠন ব্যহত হয়েছে।
ব্যক্তিগত মালিকানাধীন শিল্প ছাড়াও রেলপথ ও মেট্রো সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে সাবেক সরকারের আমলে আটকে গিয়েছিল জমি সংক্রান্ত জটে।
ফলে, নতুন শিল্প ও জমি নীতি কী হবে সেই নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের আগ্রহ ছিল নতুন সরকার গঠনের দিন থেকেই। কিন্তু ভূমিসংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে জড়িতরা বলছেন যে, সরকারের সামনে এই নীতি বাস্তবায়নেরও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে।
ইনস্টাগ্রামে বিবিসি বাংলা ফলো করতে ক্লিক/ট্যাপ করুন এখানে
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বৃহস্পতিবার নতুন শিল্প নীতি ঘোষণা করার পরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন যে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেই বিষয়ে সরকার উদ্যোগী হয়েছে। একই সঙ্গে বাম ও তৃণমূল আমলের জমি নীতির সমালোচনা করেছেন তিনি।
সরকারি উদ্যোগে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরির কথা বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। অর্থাৎ সরকার নিজে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি জমিদাতাদের থেকে কিনবে এবং শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে হস্তান্তর করবে।
এই নীতি তৃণমূল সরকারের আমলের নীতির থেকে আলাদা যেখানে শিল্পগোষ্ঠীর উপর জমি দিতে নারাজ মানুষদের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব ছিল। এই নীতির মুলে ছিল বাম আমলে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের ঘটনা।
সিঙ্গুরে টাটা শিল্পগোষ্ঠীর ন্যানো কারখানা তৈরিতে যে জমি অধিগ্রহণ হয়েছিল তা ছিল ১৮৫৪ সাল অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলের ভূমি অধিগ্রহণ নীতি অনুসারে।


মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।