শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬ / রাত ১০:৪৬ঢাকা, বাংলাদেশ যোগাযোগ ↗
এইমাত্র
জাতীয়

৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেইজ থেকে নেওয়াঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ছবি: বিএনপির ফেসবুক পেইজ থেকে নেওয়াঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ যাতে দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে, বাংলাদেশকে কোনো দেশের তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য উন্নত ও বজায় রাখতে হলে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে ঘিরে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে ইতিহাসভিত্তিক মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী উপস্থাপন করেছে, তার জন্য প্রথমেই তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। ঐতিহাসিক এই দিনে সবাইকে নজরুল বর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ‘দেশপ্রেমিক, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের কাছে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গৌরবের দিন।

১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করেছিল।

সেই চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় ২ নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়েছিল। স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা রুখে দিয়েছিল। এ কারণেই দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।

তারেক রহমান বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, যারা জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, যারা দেশের শৌর্য-বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজয় ঘটেছিল। অপশক্তি পরাভূত হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘তবে ৭ নভেম্বরের পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র কখনো থেমে থাকেনি।

ষড়যন্ত্রের পথ ধরে তারা মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে পুনরায় তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের সব গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল।

হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালে পুনরায় ৭ নভেম্বরের সেই পরাজিত অপশক্তির পরাজয় ঘটেছে। দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন এবং ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, আজকের এই দিনে তাদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও প্রায় একইভাবে সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে এসে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। তারেক রহমান বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন।

যতবার বাংলাদেশ ৭ নভেম্বরের পথরেখা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবারই দেশ ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। ৭ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের ম্যাগনা কার্টা। জাতীয় পরিচয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—যারা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছেন, নাগরিক হিসেবে সবার একটাই গর্বিত পরিচয়, ‘আমরা বাংলাদেশি’।

এই পরিচয়ই আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছিল। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘আমরা বাংলাদেশি’ পরিচয় নির্ধারণের ভিত্তিভূমিও রচিত হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে।

৭ নভেম্বরের নায়ক দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে লড়াই করেছেন। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষকের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

ইতিহাস চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়। শুদ্ধ ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। আজকের আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী এই স্টেডিয়ামে ৭ নভেম্বরকে ঘিরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নির্মোহভাবে তুলে ধরেছে।

আমি বিশ্বাস করি, ইতিহাসসচেতন এই প্রজন্ম ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না। তারেক রহমান বলেন, ‘যে দেশের তারুণ্য জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত নয়, সেই দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনায় এ দেশের তারুণ্য প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নে তারা কখনো আপস করেনি।

তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব ও সরকারের অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব। তবে সেই গৌরবের পতাকা উন্নত ও বজায় রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো, স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাে আত্মনিয়োগ করা।

অভিভাবক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, তারুণ্যের সব সম্ভাবনা বিকশিত করার প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী গড়ে তোলাে বদ্ধপরিকর। তিনি আরও বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী, যতবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, যতবার এ দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবারই ৭ নভেম্বরের ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের চেতনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) তিন হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য অংশ নেন। এ সময় সেনাপ্রধান, বিমানবাহিনী প্রধান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।

সূত্র: আমার দেশ

মতামত (০)

এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।

আরও পড়ুন

জাতীয়

এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শেষ আজ, মানতে হবে যে যে নিয়ম

২০২৬ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের (খাতা চ্যালেঞ্জ) আবেদন শেষ হচ্ছে আজ শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬)। ...

জাতীয়

নিউজিল্যান্ড’ -

xwhatsapp-strokecopylinkgoogleAdd Al Jazeera on Googleinfo(Al Jazeera)By ReutersPublished On 7 Nov 20267 Nov 2026New Zealand’s gov...

জাতীয়

৭ নভেম্বর উপলক্ষে শোভাযাত্রা, নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ভিড়

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়ছে.....

বিজ্ঞপ্তি

এটি 24TV.Live এর বেটা সংস্করণ। আপনার মতামত জানান।

মতামত দিন ↗
অ্যাপ ডাউনলোড Android Android TV