সাত ব্যান্ডের মিলনমেলা, জেমস এলেন রাত ১০টায়...

মঞ্চে একের পর এক প্রিয় গান, সামনে উচ্ছ্বসিত শ্রোতার ভিড়। কেউ এসেছেন বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’ ঘিরে আজ শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পরিণত হয় ব্যান্ডসংগীতপ্রেমীদের মিলনমেলায়। দিনভর ন...
মঞ্চে একের পর এক প্রিয় গান, সামনে উচ্ছ্বসিত শ্রোতার ভিড়। কেউ এসেছেন বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’ ঘিরে আজ শনিবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পরিণত হয় ব্যান্ডসংগীতপ্রেমীদের মিলনমেলায়।
দিনভর নানা ব্যান্ডের পরিবেশনার পর রাত ১০টায় মঞ্চে ওঠেন নগরবাউল জেমস। শুরু করেন ‘কবিতা তুমি স্বপ্নচারিণী হয়ে খবর নিয়ো না’। .সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই কনসার্ট।
সহযোগিতায় রয়েছে বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (বামবা)। সবার জন্য উন্মুক্ত আয়োজনটিতে অংশ নিয়েছে দেশের সাত জনপ্রিয় ব্যান্ড—নগরবাউল, মাইলস, ওয়ারফেজ, ফিডব্যাক, আর্টসেল, শিরোনামহীন ও মেকানিক্স। .দুপুরের পর থেকেই কনসার্টস্থলে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি।
প্রিয় ব্যান্ডের গান শুনতে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসতে থাকেন শ্রোতারা। বিএনপির র্যালি শেষে ভিড় আরও বাড়ে। তরুণদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে জমে ওঠে আয়োজন।
.বেলা সাড়ে তিনটায় মেকানিক্সের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় কনসার্ট। প্রায় ৪০ মিনিটে ৫টি গান শোনায় ব্যান্ডটি। দেশকে উৎসর্গ করে ‘অপরাজেয়’ গান দিয়ে শুরু হয় তাদের পরিবেশনা।
এরপর প্রয়াত ও সাবেক সদস্যদের স্মরণে গায় ‘নিয়তি’। একে একে শোনায় ‘ছিন্ন পৃষ্ঠা’, ‘শুভ্র শহর’ ও ‘বিস্ময়’। পরিবেশনা শেষে মেকানিক্সের দলনেতা ও কণ্ঠশিল্পী আফতাবুজ্জামান ত্রিদিব প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেকানিক্স সব সময় চায় গানের মাধ্যমে মানুষ যেন অনুপ্রাণিত হয়।
আমরা মানুষের কথা, প্রতিবাদের কথা বলতে চাই। সমাজের নানা অসংগতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে গানের মাধ্যমেই আমরা আমাদের প্রতিবাদ জানিয়ে যেতে চাই। ’জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস প্রসঙ্গে ত্রিদিব বলেন, সংগ্রামের দিনগুলো স্মরণ করে ইতিবাচক কিছু অর্জনে অনুপ্রাণিত হওয়াই তাঁদের প্রত্যাশা।
.মেকানিক্সের পর মঞ্চে আসে শিরোনামহীন। ‘পাখি’ দিয়ে পরিবেশনা শুরু করে ব্যান্ডটি। এরপর শোনায় কাজী নজরুল ইসলামের ‘দুর্গম গিরি কান্তার-মরু’।
একে একে ‘মা’, ‘ইচ্ছে ঘুড়ি’, ‘এই অবেলায়’ ও ‘আবার হাসিমুখ’ গানে জমে ওঠে তাদের পরিবেশনা। শিরোনামহীনের দলনেতা, বেজ গিটারিস্ট ও গীতিকার জিয়াউর রহমান বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এই আয়োজনে সহযোগিতা করছে বামবা। নিজেদের আয়োজন বলে এর আনন্দ ও পরিবেশও আলাদা।
শৃঙ্খলার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আয়োজনের সফলতা কামনা করেন তিনি। শিরোনামহীনের পর মঞ্চে পরিবেশনা করে আর্টসেল ও ফিডব্যাক।
‘সে কি তুমি’ গান দিয়ে শুরু করে ফিডব্যাক। সাত ব্যান্ডের এই আয়োজনে ছিল ওয়ারফেজের পরিবেশনাও। মাইলসের পরিবেশনায় উঠে আসে ব্যান্ডটির পরিচিত একগুচ্ছ গান।
‘জ্বালা জ্বালা’, ‘চাঁদ তারা’, ‘পিয়াসী মন’, ‘সে কোন দরদিয়া’, ‘নীলা’, ‘ধিকিধিকি’ ও ‘ফিরিয়ে দাও’ শোনায় তারা। একের পর এক ব্যান্ডের পরিবেশনার মধ্যেও অনেক শ্রোতার অপেক্ষা ছিল জেমসকে ঘিরে। রাত সাড়ে নয়টায়ও তাঁরা অপেক্ষায় ছিলেন প্রিয় শিল্পীর মঞ্চে ওঠার।
সেই অপেক্ষা শেষে রাত ১০টায় মঞ্চে ওঠেন জেমস। .আয়োজনের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে বামবার সহসভাপতি এবং ওয়ারফেজের শেখ মনিরুল আলম বলেন, উন্মুক্ত স্থানে এত বড় আয়োজনে বিপুল দর্শক সামলানো চ্যালেঞ্জের। ব্যান্ড নির্বাচন থেকে সাউন্ড, লাইট, মঞ্চের কারিগরি ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মান বজায় রাখার চেষ্টা করেন তাঁরা।
শ্রোতারা যেন উৎসবের আমেজে আনন্দের সঙ্গে গান উপভোগ করতে পারেন, সেটিই তাঁদের লক্ষ্য। .আয়োজনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, ‘মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই আমাদের এই আয়োজন। ’ তিনি জানান, মানুষ যেন আনন্দের মধ্য দিয়ে বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করতে পারে, সে জন্য জেলার শিল্পকলা একাডেমিগুলোতেও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
কনসার্ট ঘিরে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা।






মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।