নিউজিল্যান্ডের হ্যামিল্টনে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতকে ৭ উইকেটে পরাজিত করেছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। তবে এই হারের পরেও পাঁচ ম্যাচের এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজটি ৩-২ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারী ভারত। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৮ উইকেটে ১৯১ রান সংগ্রহ করে, জবাবে টিম সাইফার্টের বিধ্বংসী ৯৩ এবং গ্লেন ফিলিপসের অপরাজিত অর্ধশতকের ওপর ভর করে নিউজিল্যান্ড ১৯৫ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচের শুরুটা ভারতের জন্য ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। ইশান কিষাণ এবং শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাটে চড়ে ভারত এক সময় বড় সংগ্রহের পথে ছিল। এই দুই ব্যাটার মাত্র ৭ ওভারে ৯৩ রানের একটি ঝোড়ো জুটি গড়েন। ১০.১ ওভারেই ভারতের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১১২ রান। ইশান কিষাণ ৩১ বলে ৬১ রানের একটি দারুণ ইনিংস খেলেন এবং শ্রেয়াস আইয়ার করেন ৫০ রান। তবে কিষাণ আউট হওয়ার পরই ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয় শুরু হয়। ব্লেয়ার টিকনারের বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কিষাণ। এরপর শ্রেয়াস আইয়ারও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, অ্যাডাম মিলনের একটি শর্ট বলে টপ এজ হয়ে সাইফার্টের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
ভারতের মিডল অর্ডার আজ সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেনি। তিলক ভার্মা এবং নমন ধীর দ্রুত বিদায় নিলে রানের গতি কমে যায়। অ্যাডাম মিলনে আজ ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। তিনি ১৯ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করেন। বিশেষ করে ডেথ ওভারে তার স্লোয়ার ডেলিভারিগুলো ভারতীয় ব্যাটারদের বেশ বিপাকে ফেলেছিল। হার্শাল প্যাটেল এবং ভুবনেশ্বর কুমারও মিলনের শিকার হন। ভুবনেশ্বর কুমার ইনসাইড-আউট শট খেলতে গিয়ে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রানে থামে। নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিং আজ খুব একটা ভালো ছিল না, তারা বেশ কয়েকটি ক্যাচ মিস করেছে এবং নো-বলও করেছে, যা ভারতের রান বাড়াতে সাহায্য করেছিল।
১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটাও ছিল আক্রমণাত্মক। তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারতো চতুর্থ ওভারেই। ব্যক্তিগত ১৩ রানে থাকা অবস্থায় টিম সাইফার্টের একটি সহজ ক্যাচ মিস করেন নমন ধীর। এই জীবন পাওয়ার পর সাইফার্ট আর পেছনে ফিরে তাকাননি। তিনি ভারতীয় বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাত্র ৫০ বলে ৯৩ রানের একটি টর্নেডো ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল বাউন্ডারি ও ছক্কার ফুলঝুরি। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি তার প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে আউট হয়ে যান। একটি গুড লেন্থ বল কভার দিয়ে মারতে গিয়ে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন তিনি। সাইফার্টের এই বিদায়ে তার সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপ থাকলেও দলের জয় ততক্ষণে প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।
সাইফার্টের সাথে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন গ্লেন ফিলিপস। ফিলিপস এই সিরিজে অবিশ্বাস্য ফর্মে ছিলেন এবং শেষ ম্যাচেও তিনি অপরাজিত ৬৫ রান করেন। এই সিরিজের পাঁচটি ম্যাচে তিনি মোট ৩৪১ রান সংগ্রহ করেছেন, যা যেকোনো দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে একজন ব্যাটারের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। ভারতের বোলাররা হ্যামিল্টনের কন্ডিশনে সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি। রাতের বেলা পিচ কিছুটা মন্থর হয়ে আসায় কিউই ব্যাটারদের জন্য শট খেলা সহজ হয়ে গিয়েছিল। ফিন অ্যালেন এবং ড্যারিল মিচেল দ্রুত আউট হলেও সাইফার্ট ও ফিলিপসের জুটি নিউজিল্যান্ডকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়।
নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে অ্যাডাম মিলনে ছাড়াও ব্লেয়ার টিকনার এবং নাথান স্মিথ গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন। টিকনার যখন নমন ধীরের উইকেটটি নেন, তখন তিনি পকেমন কার্ড বের করে এক অদ্ভুত উদযাপনে মেতে ওঠেন, যা গ্যালারির দর্শকদের বেশ আনন্দ দেয়। অন্যদিকে ভারতের হয়ে অভিষেক শর্মা এবং ইশান কিষাণ ফিল্ডিংয়ে কিছু ভালো ক্যাচ নিলেও বোলারদের ব্যর্থতায় ম্যাচটি বাঁচাতে পারেননি। বিশেষ করে পাওয়ারপ্লেতে উইকেট না পাওয়া এবং মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে রাখতে না পারা ভারতের হারের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সিরিজ জয়ের আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত, কারণ তারা আগেই প্রথম তিন ম্যাচ জিতে ট্রফি নিশ্চিত করে ফেলেছিল। নিউজিল্যান্ডের জন্য এই জয়টি ছিল কেবলই সান্ত্বনার, তবে শেষ দুই ম্যাচ জিতে তারা সিরিজে লড়াইয়ের মানসিকতা প্রদর্শন করেছে।
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!