খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, যুবসমাজ হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং অফুরন্ত সম্ভাবনার জায়গা। যেকোনো জাতির সামগ্রিক উন্নয়ন, অগ্রগতি ও টেকসই সমৃদ্ধি অর্জনের মূল চালিকাশক্তি হলো তরুণ প্রজন্ম। তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ, যোগ্য এবং দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। সরকার যুবসমাজকে প্রকৃত সম্পদে রূপান্তর করতে কার্যকর ও যুগোপযোগী নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
রোববার মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় জাতীয় যুব দিবস উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য এক র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা তুলে ধরেন। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় যুবসমাজ ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। মন্ত্রী বলেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের তরুণদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে। মেধা ও শ্রমের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে যুবসমাজ দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে।
খাদ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশে বেকারত্ব দূরীকরণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে বেকারত্ব নিরসন অপরিহার্য। সেই লক্ষ্যে সরকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ ও যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা হচ্ছে, যাতে তারা কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে এবং অন্যদের জন্যও নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হয়।
তরুণদের ইতিবাচক পরিবর্তনের দূত হিসেবে আখ্যায়িত করে খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশ গঠনের প্রতিটি ঐতিহাসিক ও সামাজিক রূপান্তরে যুবসমাজের অবদান সবসময় অনস্বীকার্য। আজকের তরুণদের সততা, দেশপ্রেম ও উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে। সরকার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত তরুণ-তরুণীদের জন্য নানা ধরনের পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করে উদ্যোক্তা সৃষ্টির পথকে আরও সুগম করা হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় আয়োজিত এই বিশেষ আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলার সিভিল সার্জন ড. আইভী ফেরদৌস, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম এবং স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। আমন্ত্রিত অতিথিরাও যুব দিবসের তাৎপর্য ও জাতীয় উন্নয়নে যুবকদের ভূমিকার বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন এবং তরুণ সমাজকে গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে যুব কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার তাগিদ দেন। তারা বলেন, সমাজের তরুণদের মাদকের মতো ধ্বংসাত্মক পথ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও দক্ষতা নিয়ে এগিয়ে গেলে বাংলাদেশের যুবসমাজ দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেবে। খাদ্যমন্ত্রী উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, তারা যেন নিজ নিজ জায়গা থেকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে দেশের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, বিষয়টির গতিপ্রকৃতি নীতিনির্ধারক ও সাধারণ পাঠকদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার সূত্রপাত থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!