দেশে আদৌ কোনো সরকার আছে কি না, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

রাজধানীর গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের (সাবেক হোম ইকোনমিকস কলেজ) নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন যে, দেশে আদৌ কোনো সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান আছে কি না। তিনি বলেন, গভীর রাতে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এই ধরনের বর্বরোচিত লাঠিচার্জের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি কোনো সভ্য সমাজে কাম্য হতে পারে না। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার অভাব ফুটে উঠেছে বলে তিনি মনে করেন।
জামায়াত আমির তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, হলের সিট পুনর্বহাল, আবাসন সংকট নিরসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি বন্ধের মতো অত্যন্ত যৌক্তিক ও ন্যায়সঙ্গত দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছিলেন। শিক্ষার্থীদের এই দাবিগুলো ছিল সম্পূর্ণ একাডেমিক এবং প্রশাসনিক। কিন্তু কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান না করে বরং তাদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো শোনার পরিবর্তে তাদের ওপর পুলিশি হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা এবং অমানবিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তিনি প্রশ্ন করেন, দেশে কি এমন কেউ নেই যিনি এই ধরনের অন্যায় ও বর্বরোচিত ঘটনাগুলো দেখার ক্ষমতা রাখেন বা বিচার করতে পারেন।
বিশেষ করে ছাত্রী হোস্টেলে পুরুষ পুলিশ সদস্যদের প্রবেশ এবং নারী শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন দেশে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার যেখানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা, সেখানে গভীর রাতে তাদের আবাসে পুরুষ পুলিশ ঢুকে হামলা চালানো চরম অনৈতিক। এই ঘটনাটি দেশের শাসনব্যবস্থা এবং নৈতিকতার অবক্ষয়কে নির্দেশ করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের ঘটনার পর দেশে আসলেই কোনো কার্যকর সরকারব্যবস্থা আছে কি না তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এভাবে চড়াও হয়, তখন সেই রাষ্ট্রের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার ফেসবুক পোস্টে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার অবিলম্বে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তিনি বলেন, যারা এই হামলার সাথে জড়িত এবং যারা এই ধরনের অমানবিক নির্দেশের পেছনে রয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো এই দমন-পীড়ন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী কায়দায় জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর যে সংস্কৃতি দেশে গড়ে উঠেছে, তা আর চলতে দেওয়া যায় না। জনগণের কণ্ঠরোধ করে এবং তাদের ন্যায্য দাবিকে বুলেটের মাধ্যমে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা অতীতেও সফল হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
পরিশেষে জামায়াত আমির শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন এবং প্রাতিষ্ঠানিক হয়রানি বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন না করে উল্টো তাদের ওপর নির্যাতন চালানো চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। তিনি আহত শিক্ষার্থীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, জনগণের ওপর এই ধরনের দমন-পীড়ন চালিয়ে কোনো সরকার দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না এবং এর জন্য তাদের একদিন জবাবদিহি করতে হবে।
পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, বিষয়টির গতিপ্রকৃতি নীতিনির্ধারক ও সাধারণ পাঠকদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার সূত্রপাত থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।




মতামত (০)
এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।