ব্রেকিং নিউজ

সংবাদ বা বিষয় অনুসন্ধান করুন

24TV.Live
প্রচ্ছদ লাইভ টিভি সংবাদ খেলাধুলা ই-স্পোর্টস পত্রিকা ডিরেক্টরি যোগাযোগ
ক্যাটাগরি সমূহ:
জাতীয় আন্তর্জাতিক ই-স্পোর্টস দেশ ২৪ দেশ সংবাদ রাজনীতি অর্থনীতি খেলাধুলা
আন্তর্জাতিক

চীনে ‘ডার্ক ট্যুরিজম’ বা শোকাতুর পর্যটন: দুর্যোগ শিক্ষা কি বিনোদনে পরিণত হচ্ছে?

System Administrator • রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
৬৭ বার পঠিত
চীনে ‘ডার্ক ট্যুরিজম’ বা শোকাতুর পর্যটন: দুর্যোগ শিক্ষা কি বিনোদনে পরিণত হচ্ছে?
চীনে ‘ডার্ক ট্যুরিজম’ বা শোকাতুর পর্যটন: দুর্যোগ শিক্ষা কি বিনোদনে পরিণত হচ্ছে? ছবি: 24TV.Live

বিগত কয়েক দশকে চীন অসংখ্য ভয়াবহ ভূমিকম্প, বন্যা এবং টাইফুনের মোকাবিলা করেছে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত এখনও অনেক মানুষের মনে সতেজ থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে এক নতুন ধরনের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটছে যা বিশ্বজুড়ে ‘ডার্ক ট্যুরিজম’ বা শোকাতুর পর্যটন হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে যেসব স্থানে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছিল, সেখানে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। তবে এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহ একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে: দুর্যোগ থেকে বেঁচে থাকার শিক্ষা কি এখন নিছক বিনোদনে পরিণত হচ্ছে? আল জাজিরার সাংবাদিক ক্যাটরিনা ইউ-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে, যেখানে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে দুর্যোগের সিমুলেশন বা কৃত্রিম পুনর্নির্মাণ এখন শিক্ষা এবং বিনোদনের মধ্যকার সীমারেখাকে অস্পষ্ট করে তুলছে।

চীনে এই ধরনের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে মূলত ভূমিকম্প বা বন্যার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিগুলোকে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়। পর্যটকরা সেখানে গিয়ে অনুভব করতে পারেন একটি বড় মাত্রার ভূমিকম্পের সময় ঘরবাড়ি কীভাবে কেঁপে ওঠে বা জলোচ্ছ্বাসের সময় পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। আয়োজকদের দাবি, এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দুর্যোগের সময় করণীয় সম্পর্কে বাস্তবসম্মত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব। তারা মনে করেন, পাঠ্যবইয়ের তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়ে এই ধরনের সরাসরি অভিজ্ঞতা মানুষকে অনেক বেশি সচেতন করে তোলে। কিন্তু সমালোচকদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে একটি বাণিজ্যিক রূপ নিচ্ছে। যেখানে মানুষের মৃত্যু এবং ধ্বংসের স্মৃতি জড়িয়ে আছে, সেখানে পর্যটকদের আনন্দভ্রমণ বা সেলফি তোলার বিষয়টি নৈতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ক্যাটরিনা ইউ তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, এই কেন্দ্রগুলোতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি এখন অনেক বেশি উন্নত। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) এবং অত্যাধুনিক যান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দুর্যোগের দৃশ্যগুলো এতই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয় যে, অনেক সময় পর্যটকরা ভুলেই যান এটি একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের নিয়ে এখানে আসছে একটি রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার আশায়, যা অনেকটা থিম পার্কের বিনোদনের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন কোনো ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তখন সেই ঘটনার গুরুত্ব এবং শোকের আবহ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। চীনের বিভিন্ন প্রদেশে ছড়িয়ে থাকা এই কেন্দ্রগুলো এখন স্থানীয় অর্থনীতির একটি বড় অংশ হয়ে উঠছে, যা এই বিতর্ককে আরও উসকে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডার্ক ট্যুরিজমের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো। কিন্তু যখন এই স্থানগুলোতে বিনোদনের উপাদান বেশি প্রাধান্য পায়, তখন তা দুর্যোগের ভয়াবহতাকে লঘু করে ফেলে। চীনে ২০০৮ সালের সিচুয়ান ভূমিকম্পের মতো ঘটনাগুলোর স্মৃতি এখনও অনেকের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সেই স্মৃতিগুলোকে যদি কেবল পর্যটন আকর্ষণের বস্তু হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে তা ভুক্তভোগীদের আবেগে আঘাত হানতে পারে। অন্যদিকে, সরকার এবং উদ্যোক্তারা বলছেন যে, এই ধরনের সিমুলেশন সেন্টারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর উন্নয়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিলে অবদান রাখা সম্ভব হচ্ছে।

পরিশেষে, চীনের এই ডার্ক ট্যুরিজম বা দুর্যোগ পর্যটন এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে এটি জীবন রক্ষাকারী দক্ষতা শেখার একটি আধুনিক মাধ্যম হিসেবে প্রশংসিত হচ্ছে, অন্যদিকে এটি ট্র্যাজেডিকে পণ্যে রূপান্তর করার অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছে। ক্যাটরিনা ইউ-এর প্রতিবেদনটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, শিক্ষা এবং বিনোদনের এই মিশ্রণ যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত না হয়, তবে এটি তার মূল উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলবে। দুর্যোগের শিক্ষা জরুরি, কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই মানুষের কষ্ট বা জাতীয় শোকের অবমাননা না করে, সেদিকে খেয়াল রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। চীনের এই মডেলটি ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

পুরো ঘটনাটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, বিষয়টির গতিপ্রকৃতি নীতিনির্ধারক ও সাধারণ পাঠকদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার সূত্রপাত থেকে শুরু করে বর্তমান অবস্থা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য ও অগ্রগতি নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বজায় রেখে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এই সংবাদটির মূল তথ্য ও বিবরণ Al Jazeera থেকে সংগৃহীত। 24TV.Live এর এআই নিউজ এডিটর সম্পাদকীয় নীতি ও মানদণ্ড বজায় রেখে এটি পুনর্লিখন করেছে।

মন্তব্য (০)

আপনার মতামত লিখুন

এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!

আরও পড়তে পারেন

বেটা ঘোষণা: এটি 24TV.Live এর বেটা সংস্করণ। আপনার মতামত জানান।
মতামত দিন