রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬ / রাত ১:০৬ঢাকা, বাংলাদেশ যোগাযোগ ↗
এইমাত্র
রাজনীতি

আজ যা কিছু সুন্দর, যা কিছু সফল, সব অবদান জিয়াউর রহমানের: ঢাবি উপাচার্য

আজ যা কিছু সুন্দর, যা কিছু সফল, সব অবদান জিয়াউর রহমানের: ঢাবি উপাচার্য
আজ যা কিছু সুন্দর, যা কিছু সফল, সব অবদান জিয়াউর রহমানের: ঢাবি উপাচার্য

‘আজ যা কিছু সুন্দর, যা কিছু সফল, তার সমস্ত অবদান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম...

‘আজ যা কিছু সুন্দর, যা কিছু সফল, তার সমস্ত অবদান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পথ সুগম হয়েছিল। জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রের দায়িত্বে বসানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে পরিবর্তনের সূচনা হয়।

শনিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায়ও সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য। আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনা না ঘটলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব টিকে থাকত কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকে যায়।

ওই সময় দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ ছিল। দেশি-বিদেশি আধিপত্যবাদ, পাল্টাপাল্টি অভ্যুত্থান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে ৩ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশ চরম দুর্বিষহ সময় পার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

১৯৭৫ সালের ওই সময়ের ঘটনা তুলে ধরে অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়েছিল। পরে সিপাহি ও সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে এবং জাতির প্রয়োজনে রাষ্ট্রের দায়িত্বে বসায়। ৭ নভেম্বরকে সিপাহি-জনতার বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি ছিল সিপাহি-জনতার বিপ্লব।

সবাই সংহতি প্রকাশ করে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাকে নিয়ে আসে। জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। এই পরিচয়ের আওতায় বাঙালির পাশাপাশি চাকমা, মারমা, মগ, মুরং, গারো ও খাসিয়াসহ দেশের সব জাতিগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশকে উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে আসে। জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টিতেও তার ভূমিকা ছিল।

এ সময় তিনি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে তার জান্নাত কামনা করেন। ৭ নভেম্বরকে জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘আমরা এই দিনটিকে ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই দিনটি আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখতে হবে।

এই দিনটি শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিটি মুহূর্তে মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশ সবার আগে বাংলাদেশ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।

এদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন দেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন উপাচার্য। শনিবার টিএসসি মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশের সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছিল। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।

এই দিবস আমাদের ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ পরিহার করে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা দেয়। দিবসটির তাৎপর্য অনুধাবন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম বলেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমির মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবর্তন হয় এবং উৎপাদনমুখী রাজনীতির সূচনা ঘটে।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, দিবসটির তাৎপর্য অনুধাবন করে আধিপত্যবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক, প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু এবং ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, কর্মচারী সমিতি, কারিগরি কর্মচারী সমিতি ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারাও বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ। অন্যদিকে, দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের উদ্যোগে ৭ ও ৮ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে টিএসসিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহসের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। অনুষ্ঠানে হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ৭ নভেম্বর কেবল একটি তারিখ নয়, এটি একটি চেতনা ও প্রেরণার নাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লড়াইয়ের যে ঐতিহ্য, ৭ নভেম্বরের চেতনার সঙ্গে তার মিল রয়েছে। তিনি বলেন, অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে মানুষ স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধারা এমন একটি দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে অন্যায়-অত্যাচার থাকবে না এবং মানুষের কথা বলার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।

কিন্তু স্বাধীনতার পর দেশের মানুষ দুর্ভিক্ষ, দারিদ্র্য ও নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। পাকিস্তানি শোষকগোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত হওয়ার পরও বাংলাদেশকে অন্য একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সোহেল আরও বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন দেশের নিজস্ব শক্তি ও মেরুদণ্ড থাকতে হবে; অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা উচিত নয়।

৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের নিজস্ব শক্তি প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই দিনের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান সামনে চলে আসেন। তাঁর সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষি, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নানা পরিবর্তন এসেছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৬ সালে এসে ২০০৬ সালের পর এবারই প্রথম এতটা মুক্ত পরিবেশে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

দীর্ঘ ২০ বছর রাষ্ট্রীয় বা দলীয়ভাবে এ ধরনের অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ হয়নি। আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।

সূত্র: আমার দেশ

মতামত (০)

এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। প্রথম মতামতটি আপনার হোক।

আরও পড়ুন

24TV.Live ব্যানার
রাজনীতি

সরকারের ৭ মাসের কর্মকাণ্ডে জনগণের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেড়েছে

ছবি: আমার দেশবাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে শপথ ...

24TV.Live ব্যানার
রাজনীতি

৭ নভেম্বর উপলক্ষে বায়তুল মোকাররমে কোরআন খতম ও বিশেষ দোয়া

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র কোরআন খতম ও বিশেষ দ...

24TV.Live ব্যানার
রাজনীতি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী’

xwhatsapp-strokecopylinkgoogleAdd Al Jazeera on GoogleinfoItaly's Deputy প্রধানমন্ত্রী and পররাষ্ট্রমন্ত্রী Antonio Tajani address...

24TV.Live ব্যানার
রাজনীতি

সততাই প্রকৃত শিক্ষা মাওলানা মুনিরের কাছে

হাতে কালো মার্কার। শ্রেণিকক্ষের সাদা বোর্ডে আরবিতে একের পর এক বাক্য লিখে চলেছেন মাওলানা মুনির আহমেদ। বিমানবন্দরে আরবিতে কীভাবে কথা...

বিজ্ঞপ্তি

এটি 24TV.Live এর বেটা সংস্করণ। আপনার মতামত জানান।

মতামত দিন ↗
অ্যাপ ডাউনলোড Android Android TV