গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয়রা। শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত ক্বারিউল কুরআন মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর এবং শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি রোডে মাদরাসার নিজস্ব ভবনের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও মাদরাসা কতৃপক্ষের আয়োজনে এ সমাবেশে বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের একটি সুশৃঙ্খল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা ও শিক্ষকদের মারধর অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে যারা আইনের নিজের হাতে তুলে নিয়েছে এবং ভাঙচুর চালিয়েছে, তারা মূলত সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, যেকোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত, কিন্তু তার নামে সন্ত্রাস ও হামলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কিছুদিন ধরে ওই এলাকায় কিছু বিষয় নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল, যার জেরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সময়মতো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে আরও বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা ছিল বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। সমাবেশে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ জনতা দ্রুত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো সংঘর্ষ বা উত্তেজনার সৃষ্টি না হয়। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি অভিযোগ জমা পড়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।