মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই মন্তব্য করেন। তিনি গণমাধ্যমকে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতে দেশে ফ্যাসিস্ট শক্তি তৈরিতে গণমাধ্যম অনেকাংশেই সহায়তা করেছে। শনিবার নিজ জেলা মৌলভীবাজারের সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন এবং দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার ওপর বিশেষ জোর দেন।
জামায়াত আমির বলেন, গণমাধ্যম হলো জাতির বিবেক এবং রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। কিন্তু অতীতে বিভিন্ন সময়ে কিছু গণমাধ্যমের পক্ষপাতমূলক ও অতিমাত্রায় অনুগত আচরণের কারণে সমাজে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার ভিত মজবুত হয়েছিল। জনগণের প্রকৃত কণ্ঠস্বর তুলে ধরার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় এসব গণমাধ্যম কাজ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম অতীতের ভুলত্রুটি সংশোধন করে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং সত্য প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি। কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে গণমাধ্যমকর্মীরা যদি দায়িত্ব পালন করেন, তবে সমাজ থেকে অন্যায় ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে। তিনি গণমাধ্যমকে সমাজের অসঙ্গতিগুলো সাহসিকতার সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা ও সাংবাদিকতার বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো জামায়াত আমিরের সামনে তুলে ধরেন। ডা. শফিকুর রহমান সাংবাদিকদের কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। সভা শেষে তিনি জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও শান্তি-শৃঙ্খলার বিষয়েও সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।