কুমিল্লায় জুমার নামাজের খুতবা চলাকালে আকস্মিক ঝটিকা মিছিল বের করার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে পুলিশ সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
কুমিল্লায় জুমার নামাজের খুতবার পবিত্র সময়কে কেন্দ্র করে আকস্মিক ঝটিকা মিছিল বের করার অপরাধে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক শীর্ষ নেতাসহ মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। শনিবার সকালে কুমিল্লার পুলিশ প্রশাসন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। গত শুক্রবার জুমার খুতবা চলাকালীন এই উসকানিমূলক মিছিলটি বের করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ঝটিকা মিছিলটির নেতৃত্বদানকারী নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা কাইয়ুম সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া মিছিলে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারী অন্য আসামিদের মধ্যে আজিজুর রহমান নিরব, হাসিব এবং জামিল ইসলামের নামও রয়েছে। জুমার খুতবার মতো সংবেদনশীল সময়ে এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা স্থানীয় সাধারণ মুসল্লি ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পরপরই পুলিশ গোয়েন্দা তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, দেশজুড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে এই ঝটিকা মিছিলের পরিকল্পনা করেছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, জননিরাপত্তা রক্ষা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গোপন তৎপরতা ও ঝটিকা মিছিলের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টার অংশ হিসেবেই কুমিল্লার এই ঘটনাটিকে দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কুমিল্লার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।