বর্তমান সরকারের কার্যকাল শুরু হলেও শিক্ষা ক্যাডারে পদোন্নতির কাঙ্ক্ষিত প্রক্রিয়া এখনও আলোর মুখ দেখেনি। সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব লাল ফিতায় আটকে থাকায় চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে।
অন্তর্বর্তীকালীন ও বর্তমান সরকারের সময়ে অন্যান্য ক্যাডারে পদোন্নতির গতি কিছুটা দৃশ্যমান হলেও, দেশের শিক্ষা খাতের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত শিক্ষা ক্যাডারে এখনও স্থবিরতা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা নানা দপ্তরে ধর্না দিয়েও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষা ক্যাডারের একটি বিশাল অংশ বছরের পর বছর একই পদে দায়িত্ব পালন করছেন, যা তাদের পেশাগত ক্যারিয়ারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পদোন্নতির এই দীর্ঘসূত্রতার পেছনে মূল বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে সুপারনিউমারারি বা অতিরিক্ত পদ সৃষ্টির জটিল প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং ফাইল চালাচালির দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রস্তাবটি দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে রয়েছে। শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং নীতিনির্ধারণী মহলের উদাসীনতার কারণেই মূলত এই সংকট আজ ঘনীভূত হয়েছে। এর ফলে ক্যাডার বৈষম্য আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট কোনো ব্যক্তিবিশেষের গাফিলতির ফল নয়, বরং এটি সামগ্রিক প্রশাসনিক ব্যবস্থার এক দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা। শিক্ষা প্রশাসনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে থাকা মানেই সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করা। প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে দ্রুত এই জট খোলার তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।
এদিকে, শিক্ষা ক্যাডার সংস্কার পরিষদ ও বঞ্চিত কর্মকর্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুপারনিউমারারি পদ সৃজন করে বকেয়া পদোন্নতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচিতে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কাজগুলোর একটি হওয়া উচিত প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বৈষম্য দূর করা, যার বড় পরীক্ষাগার হতে পারে শিক্ষা ক্যাডার।