আলজেরিয়ার অষ্টম ‘আসিয়া জেবার’ উপন্যাস পুরস্কারের আসরে তিন ভাষার সাহিত্যিককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ভাষা ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিকতা ফুটিয়ে তুলতে আরবি, আমাজিগ ও ফরাসি ভাষায় রচিত উপন্যাসকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
আলজেরীয় সাহিত্যের অন্যতম prestigious বা মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘আসিয়া জেবার’ উপন্যাস পুরস্কারের অষ্টম সংস্করণ সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনজন প্রতিভাবান ঔপন্যাসিককে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। আলজেরিয়ার সাহিত্য অঙ্গনে ভাষা ও সংস্কৃতির যে বৈচিত্র্য রয়েছে, তা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে এই আয়োজন বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে। এবারের আসরে তিনটি ভিন্ন ভাষায় রচিত উপন্যাসের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়, যা দেশটির বহুভাষিক সাহিত্য সংস্কৃতির এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে বিজয়ী লেখকদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও বিচারকমণ্ডলীর সদস্যরা। এবারের আয়োজনের বিচারক প্যানেলে দায়িত্ব পালন করেন সারা মুহাম্মদ মারিশ, ফরিদা সাহউই ও হুসনি কিত। অত্যন্ত কঠোর ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে জমা পড়া অসংখ্য উপন্যাস থেকে সেরা তিনটিকে নির্বাচন করেন তারা। বিচারকরা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে সাহিত্যচর্চায় ভাষার বৈচিত্র্য রক্ষা করা এবং তা টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিজয়ী উপন্যাসগুলোতে আলজেরীয় সমাজ, ইতিহাস এবং মানুষের জীবন সংগ্রামের বাস্তব চিত্র অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আলজেরিয়ার প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার আসিয়া জেবার স্মরণে এই পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছিল। যিনি তার সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে আলজেরিয়ার নারীদের অধিকার, স্বাধীনতা এবং উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিলেন। এই পুরস্কারের মাধ্যমে কেবল লেখকদেরই সম্মানিত করা হয় না, বরং আলজেরীয় সাহিত্যের শেকড়কে আরও মজবুত করার প্রচেষ্টা চালানো হয়। আরবি, আমাজিগ এবং ফরাসি ভাষার সংমিশ্রণে এই সাহিত্য উৎসব আলজেরিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বেশ কৌতূহল ও প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
সাহিত্য বোদ্ধাদের মতে, এই ধরনের পুরস্কার প্রদান আলজেরিয়ার তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি আরও বেশি অনুরাগী করে তুলবে। বিশেষ করে আমাজিগ ভাষার মতো আদি ও আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যকে মূলধারায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এই স্বীকৃতি অত্যন্ত দূরদর্শী পদক্ষেপ। আগামী দিনেও এই সাহিত্য ধারা অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্বসাহিত্যে আলজেরিয়ার অবদান আরও সমৃদ্ধ হবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই সফল সাহিত্য উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।