নেতানিয়াহু আউট, আইজেনকট ইন। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীর একটাই প্রশ্ন; নেতানিয়াহুর চেয়ে কি কম ক্ষতিকর হবেন তিনি পৃথিবীর জন্য? তাঁর জীবন নিয়ে ১০টি উল্লেখযোগ্য তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
নেতানিয়াহু আউট, আইজেনকট ইন। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীর একটাই প্রশ্ন; নেতানিয়াহুর চেয়ে কি কম ক্ষতিকর হবেন তিনি পৃথিবীর জন্য। তাঁর জীবন নিয়ে ১০টি উল্লেখযোগ্য তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
ইসরায়েলের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। তিনিই গঠন করবেন পরবর্তী সরকার। অর্থাৎ নেতানিয়াহু আউট, আইজেনকট ইন।
১৯৬০ সালের ১৯ মে ইসরায়েলের তিবেরিয়াস শহরে জন্ম গাদি আইজেনকটের। তাঁর বাবা-মা মেইর ও এস্থার মরক্কো থেকে ইসরায়েলে এসেছিলেন। তিনি মিজরাহি ইহুদি পরিবারের সন্তান।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে একসময় এই জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব ছিল তুলনামূলক কম। আইলাতের গোল্ডওয়াটার হাইস্কুলে পড়ার সময় যন্ত্রবিদ্যা ও নৌবিদ্যা বিষয়ে পড়াশোনা করেন আইজেনকট। পরে সামরিক জীবনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষাও সম্পন্ন করেন।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতক এবং হাইফা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি ওয়ার কলেজেও কৌশলগত বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজা যুদ্ধের ভয়াবহ মূল্য দিতে হয়েছে আইজেনকটের পরিবারকেও।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে যুদ্ধে নিহত হন তাঁর ২৫ বছর বয়সী ছোট ছেলে গাল আইজেনকট। এর কিছুদিন পর যুদ্ধে প্রাণ হারান তাঁর দুই ভাতিজাও। ৭. পাঁচ সন্তানের বাবা, নাতি-নাতনিদের সঙ্গেও সময় কাটান।
কঠোর সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত হলেও ব্যক্তিগত জীবনে আইজেনকট বেশ ঘরোয়া। অবসর সময়ে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন। বর্তমানে স্ত্রী ও পরিবারের সঙ্গে হার্জলিয়ায় বসবাস করেন তিনি।
২০১৫ সালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান আইজেনকট। তিনি ২০১৯ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। তাঁর নিয়োগ ছিল ঐতিহাসিক।
মিজরাহি ইহুদি জনগোষ্ঠী থেকে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি ইসরায়েলের সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পান। তারকাআইজেনকট কি নেয়ানিয়াহুর চেয়ে কম ক্ষতিকর হবেন পৃথিবীর জন্য। ইসরায়েলের মরোক্কান অভিবাসী সম্ভাব্য সরকারপ্রধানের বিষয়ে ১০ তথ্যনেতানিয়াহু আউট, আইজেনকট ইন।
শেয়ার করুনফলো করুনইসরায়েলের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। তাঁর বাবা-মা মেইর ও এস্থার মরক্কো থেকে ইসরায়েলে এসেছিলেন২. বেড়ে উঠেছেন লোহিত সাগরের তীরের শহরে। আইজেনকটের বয়স যখন এক বছর, তখন তাঁর পরিবার চলে যায় দক্ষিণ ইসরায়েলের বন্দরনগরী আইলাতে।
তাঁর বাবা তিমনা উপত্যকার তামার খনিতে কাজ করতেন। সেখানেই কেটেছে তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠার দিনগুলো। সামরিক জীবনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষাও সম্পন্ন করেন তিনি৪. সামরিক অভিযানে পরিচয়, পরে বিয়ে।
১৯৮২ সালে প্রথম লেবানন যুদ্ধের সময় সামরিক অভিযানে যাওয়ার পথে হানার সঙ্গে আবারও দেখা হয় আইজেনকটের। এর আগে তাঁদের পরিচয় ছিল। সেই সময় দুজন আর আলাদা না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
১৯৮৪ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। তাঁদের পাঁচ সন্তান, দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। গাজা যুদ্ধের ভয়াবহ মূল্য দিতে হয়েছে আইজেনকটের পরিবারকেওকালো টি-শার্ট ও জিনস পরতেই বেশি স্বচ্ছন্দ তিনি৬. নেতানিয়াহুর চেয়ে আলাদা তাঁর ব্যক্তিত্ব।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরিশীলিত ও অভিজাত জনপরিচয়ের বিপরীতে আইজেনকটকে দেখা হয় আলাদা মানুষ হিসেবে। জনসমক্ষে তাঁর পোশাকেও সেই সাধারণ ভাবের প্রতিফলন দেখা যায়। দামি স্যুটের বদলে কালো টি-শার্ট ও জিনস পরতেই বেশি স্বচ্ছন্দ তিনি।
পাঁচ সন্তানের বাবা, নাতি-নাতনিদের সঙ্গেও সময় কাটান তিনি৮. পরিবারের পদবি বদলে গিয়েছিল ভুলে। আইজেনকট পরিবারের আদি পদবি ছিল আজেনকট। তাঁর বাবা মরক্কো থেকে ইসরায়েলে আসার পর সরকারি নথি তৈরির সময় এক কর্মচারী ভুল করে পদবিটি আইজেনকট লিখে ফেলেন।
সেই ভুলই পরে পরিবারের স্থায়ী পদবি হয়ে যায়। সামরিক জীবন শেষে রাজনীতিতে যোগ দেন আইজেনকট১০. নিজের রাজনৈতিক দলের নাম রেখেছেন ‘ইয়াশার’। সামরিক জীবন শেষে রাজনীতিতে যোগ দেন আইজেনকট।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নিজের রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন। দলের নাম রাখেন ‘ইয়াশার। হিব্রু ভাষায় শব্দটির অর্থ সোজাসাপটা, সত্যনিষ্ঠ বা সৎ।
নেতানিয়াহুর বিরোধী শিবিরে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান এখন ইসরায়েলের রাজনীতিতে আলোচনার বিষয়। তথ্য: দ্য গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, উইকিপিডিয়া।




এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!