চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় উল্টে যাওয়া লোকাল বাসের নিচে চাপা পড়ে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে ডালাস পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় উল্টে যাওয়া লোকাল বাসের নিচে চাপা পড়ে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কুমিরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশে ডালাস পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাইশা মুশফিরাত আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্রী।
তার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া গ্রামে। তিনি সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে। দুর্ঘটনায় আহত রাজিয়া সুলতানা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে শিক্ষার্থীরা রাস্তার পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় যাত্রী ওঠানোর জন্য ধীরগতিতে চলা চট্টগ্রামমুখী ৮ নম্বর রুটের একটি লোকাল বাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয় একটি ভারী লরি।
ধাক্কায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। মুহূর্তেই ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাসের নিচে চাপা পড়ে মাইশাসহ কয়েকজন মারাত্মক আহত হন।
স্থানীয় লোকজন ও সহপাঠীরা দ্রুত এগিয়ে এসে বাসের নিচ থেকে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাইশাকে মৃত ঘোষণা করেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটানো লরিটি ‘কেডিএস লজিস্টিকস’-এর।
লরিটির মালিকানা, চালকের পরিচয় ও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। চার দাবিতে মহাসড়ক-রেলপথ অবরোধ: সহপাঠীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি নিকটস্থ রেলপথের ওপর অবস্থান নেন।
এতে ব্যস্ততম মহাসড়ক ও রেলপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সড়কের উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের অংশ হিসেবে চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। ১. দুর্ঘটনায় জড়িত লরি ও বাসের চালক ও মালিককে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা।
২. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে দ্রুত ফুটওভারব্রিজ ও গতি নিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ৩. নিহত মাইশার পরিবার এবং আহত শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। ৪. মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ ও বেপরোয়া গতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন।
সীতাকুণ্ডে বাসের নিচে চাপা পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত, মহাসড়ক-রেলপথ অবরোধ—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলে গভীর আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। আমার দেশ ও অন্যান্য গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এই ঘটনার সার্বিক গতিপ্রকৃতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই উন্নয়ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ভূমিকা পালন করবে। ইতিবাচক ফলাফল ধরে রাখতে নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর দেশব্যাপী সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আপনার মতামত দিয়ে প্রথম হোন!